Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর গত ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেন (Humayuns Babri Donations)। শিলান্যাসের পর থেকেই শুরু হয় নজিরবিহীন অনুদানের ঢল। বেলডাঙা, রেজিনগর, ভরতপুর ছাড়িয়ে দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ দান করতে আসতে থাকেন। মাত্র দুই দিনের মধ্যেই অনুদানের পরিমাণ ছাড়িয়ে যায় ৩ কোটি টাকা। এখনও চলছে গোনার কাজ।

উপচে পড়ল অনুদানে (Humayuns Babri Donations)
হুমায়ুন কবীর নিজেই সভাস্থলে ১১টি দান বাক্স বসিয়েছিলেন, যেগুলোর সবকটিই অল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্তরের মানুষ কেউ ৫০০ বা ২০০ টাকার নোট, কেউ খুচরো, আবার কেউ কেউ সোনা-গয়না পর্যন্ত দান করেছেন। পাওয়া সোনার বাজারমূল্য ইতিমধ্যেই লাখে পৌঁছেছে। অনলাইনেও অনুদান পৌঁছে যাচ্ছে, যার ফলে মোট অঙ্ক ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

টাকা গোনার জন্য বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার (Humayuns Babri Donations)
রবিবার সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয় টাকা গোনার কাজ। প্রচুর পরিমাণ নগদ আসায় হুমায়ুনের বাড়িতে বিশেষ টাকা গোনার যন্ত্র এনে কাজ শুরু করা হয়। সোমবার রাত পেরিয়ে মঙ্গলবারও সেই কাজ চলেছে। হুমায়ুনের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, দানের পরিমাণ এমনই বেশি যে সমস্ত টাকা ও গয়নার সুরক্ষায় বিশেষ ঘর তৈরি করে সেখানে সিসিটিভি-সহ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
বাজারে অস্বাভাবিক চাহিদা (Humayuns Babri Donations)
শুধু টাকা বা সোনা নয় অনেকে মসজিদ নির্মাণের জন্য সরাসরি ইট, বালি, পাথর দান করছেন। যার জেরে বেলডাঙা-রেজিনগরের ইট ভাটাগুলিতে হাহাকার শুরু হয়েছে। ইট ভাটার মালিকদের কথায়, ৬ ডিসেম্বরেই প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ইট বিক্রি হয়, রবিবার ও সোমবার আরও কয়েক লাখ টাকার ইট বিক্রি হয়েছে, প্রায় সবই দানের জন্য কেনা হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা চাহিদা এতটাই বেশি যে অনেক ভাটা মালিকই সরবরাহ করতে না পেরে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

পরও জনপ্রিয়তার প্রমাণ? (Humayuns Babri Donations)
শিলান্যাসের ঠিক আগেই দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করেছিল। কিন্তু বেলডাঙার শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতি ও মুক্তহস্ত অনুদান যেন তাঁর জনপ্রিয়তারই প্রমাণ দিল। শনিবারের সভা থেকে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে অনুদানের আবেদন করেছিলেন তিনি, আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রবল সাড়া মিলেছে মানুষের কাছ থেকে।
আরও পড়ুন: বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণে অনুদানের ঢল, দানবাক্সে অনুদান এল কত?
‘মুক্তহস্ত দান’-এ অভিভূত হুমায়ুন
হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, “মানুষ যে এতটা দান করবেন, তা ভাবিনি। তাঁদের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই বাবরি মসজিদ নির্মাণের শক্তি হয়ে উঠছে।” যেহেতু গোনার কাজ এখনও চলছে এবং অনলাইন অনুদান অব্যাহত রয়েছে, ফলে মোট অঙ্ক আরও বাড়বে বলে ধারণা। নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার জন্য আলাদা কক্ষ, সিসিটিভি এবং পর্যাপ্ত নজরদারির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



