Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠকে ফের তীব্র কূটনৈতিক লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ল ভারত ও পাকিস্তান (India Slams Pakistan)। মঙ্গলবারের অধিবেশনে পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি, ভেঙে পড়া অর্থনীতি এবং সেনার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানায় নয়াদিল্লি। ভারতীয় প্রতিনিধি ক্ষিতিজ ত্যাগী স্পষ্ট ভাষায় ইসলামাবাদের সমালোচনা করে বলেন, “নিজেদের নাগরিকদের উপর বোমা বর্ষণ বন্ধ করলে পাকিস্তান মানবাধিকার রক্ষায় নজর দিতে পারবে।”
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের অভিযোগ (India Slams Pakistan)
বৈঠকে নাম না করেই পাকিস্তানকে লক্ষ্য করে ভারত অভিযোগ তোলে যে, আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে ইসলামাবাদ ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে চলেছে(India Slams Pakistan)। ত্যাগী বলেন, “আমাদের ভূখণ্ডের প্রতি লোভ ত্যাগ করে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের দখলকৃত ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে সরে যাওয়া। একইসঙ্গে তাদের নজর দেওয়া উচিত লাইফ সাপোর্টে থাকা অর্থনীতি, সেনার হস্তক্ষেপে বিধ্বস্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং মানবাধিকারের অবক্ষয়ের দিকে।”
তিনি আরও যোগ করেন, পাকিস্তান যদি সন্ত্রাস ছড়ানো, রাষ্ট্রপুঞ্জ ঘোষিত জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া এবং নিজেদের নাগরিকদের উপর বোমা বর্ষণ থেকে অবকাশ পায়, তবেই মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে তারা বিশ্বাসযোগ্য হতে পারবে।
খাইবার পাখতুনখোয়ার বিস্ফোরণ বাড়ালো চাপ (India Slams Pakistan)
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন (India Slams Pakistan)। স্থানীয় পুলিশের দাবি, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের ঘাঁটিতে মজুত বিস্ফোরকেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই অভিযোগ করেছে, এটি পাক সেনার হামলার ফল। যদিও ইসলামাবাদ প্রশাসন তা অস্বীকার করেছে।
এমন ঘটনায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা বেড়েছে যে, সন্ত্রাস মোকাবিলায় পাকিস্তান কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে।

আরও পড়ুন : Ladakh Protest : প্রতিবাদে উত্তাল লাদাখ! নিহত ৪, আহত ৭০-এর বেশি
ভারতের ধারাবাহিক কূটনৈতিক কৌশল
আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার কূটনৈতিক কৌশল নতুন নয়(India Slams Pakistan)। অতীতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং ভারত-পাক সংঘর্ষ পরবর্তী সময়েও নয়াদিল্লি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। সম্প্রতি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর বৈঠকেও পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছে ভারত।
অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) মরক্কো সফরে গিয়ে আরও একবার দাবি করেছেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীর খুব শীঘ্রই ভারতের অন্তর্ভুক্ত হবে। তাঁর ভাষায়, “সেখানকার মানুষ ইতিমধ্যেই ভারতের অংশ হওয়ার দাবি তুলতে শুরু করেছেন।”
আরও পড়ুন : Calcutta High Court : হাইকোর্টে ফের ধাক্কা রাজ্যের! আরজি কর-এই পোস্টিং দিতে হবে অনিকেতকে, নির্দেশ আদালতের
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রভাব(India Slams Pakistan)
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কাউন্সিলে ভারতের এই সরাসরি আক্রমণ পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে আরও চাপে ফেলতে পারে(India Slams Pakistan)। একইসঙ্গে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের মানবাধিকার রেকর্ড এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতাও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের কূটনৈতিক সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলো সমাধান করতে হলে কেবল আক্রমণ-প্রত্যাক্রমণ নয়, বরং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা ও বাস্তব রাজনৈতিক আলোচনার পথে এগোতে হবে।


