Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: লাদাখের কঠোর শীতের মুখোমুখি হতে ফের একবার প্রস্তুত হচ্ছে ভারতীয় সেনা (Indian Army)। বরফে আচ্ছাদিত দুর্গম সীমান্ত অঞ্চলে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা, নজরদারি জোরদার করা, এবং সীমান্ত বরাবর কৌশলগত স্থানের জিও-ট্যাগিং সম্পূর্ণ করাই এই প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরও লাদাখ সীমান্তে সেনার পুনর্মোতায়েন হবে যা ২০২০ সালের পর থেকে ষষ্ঠ বর্ষের শীতকালীন স্থায়ী মোতায়েন হিসেবে গণ্য হবে।
)
চীন-ভারত সমঝোতার পরও সেনা প্রত্যাহার নয় (Indian Army)
গত অক্টোবর ২০২৪-এ চীন ও ভারতের মধ্যে বোঝাপড়া হওয়ার পর উভয় দেশই ‘ফ্রিকশন পয়েন্ট’ থেকে সেনা প্রত্যাহার করলেও, এখনো পর্যন্ত লাদাখ থেকে সেনা সম্পূর্ণভাবে সরানো হয়নি। ফলে, পূর্ব লাদাখে ভারতীয় সেনার উপস্থিতি আগের মতোই বজায় রয়েছে। একইভাবে, চীনা সেনারও সমান শক্তিশালী উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে, গত এক বছরে লাদাখ সীমান্তে কোনও সংঘর্ষ বা উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটেনি। শান্তি বজায় রাখতে উভয় দেশের সেনা নেতৃত্ব একাধিক confidence-building measure এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
শীতকালীন প্রস্তুতির পরিকল্পনা (Indian Army)
আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ভারতীয় সেনা তাদের winter posture বাস্তবায়ন করবে। এর অংশ হিসেবে, সীমান্তের সামনের পোস্টগুলোতে প্লাটুন ও কোম্পানি পর্যায়ে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। উচ্চতর এলাকায় যেখানে বরফে বিচ্ছিন্নতা ঘটে, সেখানে সাময়িকভাবে সেনার সংখ্যা কমানো হবে। ছুটির শতাংশেও পরিবর্তন আনা হবে, যাতে গ্রীষ্মকালে অধিকসংখ্যক সেনা মোতায়েন রাখা যায়। শীতকালেও সীমান্তে কার্যকর নজরদারি বজায় থাকবে, যা মূলত ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং air surveillance sorties-এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
নজরদারি ও প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ (Indian Army)
সেনা সূত্র অনুযায়ী, লাদাখ সীমান্ত বরাবর নজরদারি পরিকাঠামো আরও মজবুত করা হচ্ছে। একটি পূর্ণাঙ্গ surveillance network তৈরি করা হচ্ছে, যা ২৪ ঘণ্টা সীমান্ত পর্যবেক্ষণ করবে।এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো, ভবিষ্যতে অতিরিক্ত টহলদারির প্রয়োজনীয়তা কমানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে থাকবে drones, thermal imagers, ও high-altitude sensors ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা।
জিও-ট্যাগিং কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ (Indian Army)
এই বছরের শুরুতে লাদাখের সীমান্ত বরাবর গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যগুলির (key features) জিও-ট্যাগিং শুরু হয়, যার বেশিরভাগ অংশ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। শীতের শেষে স্থানীয় কমান্ডাররা প্রতিটি স্থান সরেজমিনে যাচাই করবেন। এই তথ্য সীমান্ত মানচিত্রায়ন এবং ভবিষ্যতের সামরিক পরিকল্পনায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় রাইফেলস (Rashtriya Rifles) পূর্ব লাদাখে মোতায়েন রয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা এবং সীমান্তে সেনা সমন্বয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত।
আরও পড়ুন: Fire in Government Bus: ফের সরকারি বাসে অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা
চীন-ভারত বৈঠক
সম্প্রতি, চুশুল-মলদো বৈঠক পয়েন্টে চীন ও ভারতের মধ্যে ২৩তম সামরিক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের সমঝোতার পর এই বৈঠকে দুই দেশ আবারও জোর দেয় যে, সীমান্তের স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে ‘বর্তমান মেকানিজম’-এর ব্যবহার অব্যাহত থাকবে। উভয় পক্ষই একমত হয়েছে যে, সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই বর্তমানে প্রধান অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যতে কোনও উত্তেজনা বা সংঘর্ষ এড়াতে সেনা নেতৃত্ব পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হবে।



