Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আধুনিক যুদ্ধকৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের (Indian Army Kamikaze Drones) শক্তি আরও বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। শত্রুশিবিরে নিখুঁত ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার সক্ষমতা বাড়াতে সেনার তিন বাহিনী এবং বিশেষ বাহিনীর জন্য ৮৫০টি কামিকাজ়ি ড্রোন কেনার পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একাধিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এই খবর জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএনআই।
যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ভূমিকা (Indian Army Kamikaze Drones)
বর্তমান সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ভূমিকা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ (Indian Army Kamikaze Drones) হয়ে উঠেছে, তা সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে স্পষ্ট। চলতি বছরে পাকিস্তানের গভীরে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো অপারেশন সিঁদুর-এ ভারতীয় সেনার ড্রোন ব্যবহারের সাফল্যই এই সিদ্ধান্তের প্রধান ভিত্তি বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

সেনাবাহিনীর ড্রোন অ্যাকুইজ়িশন সংক্রান্ত এই প্রস্তাবটি বর্তমানে অনুমোদনের শেষ ধাপে রয়েছে। জানা গিয়েছে, এই মাসের শেষ সপ্তাহে ডিফেন্স অ্যাকুইজ়িশন কাউন্সিলের (ডিএসি) বৈঠকে বিষয়টি তোলা হতে পারে। সেই বৈঠকেই কামিকাজ়ি ড্রোন কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত ছাড়পত্র মিলতে পারে। এই প্রকল্পে মোট খরচ হতে পারে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই দ্রুত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনাকাটার কাজ শুরু হবে, যাতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই ড্রোনগুলি সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
ড্রোন দেশীয় সংস্থাগুলির কাছ থেকেই কেনা হবে (Indian Army Kamikaze Drones)
প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, লঞ্চার-সহ এই সমস্ত কামিকাজ়ি (Indian Army Kamikaze Drones) ড্রোন দেশীয় সংস্থাগুলির কাছ থেকেই কেনা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন সেনার যুদ্ধক্ষমতা বাড়বে, তেমনই অন্যদিকে ‘স্বনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির অধীনে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও আরও শক্তিশালী হবে। এই ধাপে প্রায় ৮৫০টি ড্রোন লঞ্চার এবং তাদের উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি সিস্টেম এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে তা দ্রুত মোতায়েন করা যায় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা Indian Army Kamikaze Drones
তবে ৮৫০টি ড্রোন কেনাই সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, অদূর ভবিষ্যতে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রায় ৩০ হাজার কামিকাজ়ি ড্রোন অন্তর্ভুক্ত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এই ড্রোনগুলি দেশের বিভিন্ন যুদ্ধ ইউনিটে মোতায়েন করা হবে, যাতে প্রতিটি ইউনিট নিজস্বভাবে ড্রোন-ভিত্তিক নজরদারি ও হামলা চালাতে সক্ষম হয়।কামিকাজ়ি ড্রোনকে সাধারণভাবে আত্মঘাতী ড্রোন বলা হয়। এটি এমন এক ধরনের সামরিক ড্রোন, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গেই নিজে ধ্বংস হয়ে যায়। অর্থাৎ এই ড্রোন কখনও ফিরে আসে না। সহজভাবে বললে, এটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাঝামাঝি একটি অত্যাধুনিক অস্ত্রব্যবস্থা। এই ড্রোনে আগে থেকেই বিস্ফোরক বসানো থাকে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য চিহ্নিত করে সেটির দিকে ধেয়ে যায় এবং আঘাতের সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণ ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে এই ড্রোন দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, আবার আধুনিক সংস্করণে থাকে স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন ও টার্গেট শনাক্ত করার প্রযুক্তি।

সাংগঠনিক কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন
কামিকাজ়ি ড্রোন মূলত শত্রুর ট্যাঙ্ক ধ্বংস, র্যাডার সিস্টেমে হামলা, সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্রভাণ্ডারে আঘাত হানার কাজে ব্যবহৃত হয়। কম খরচে নিখুঁত হামলার ক্ষমতার জন্য এই ড্রোনকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে ধরা হচ্ছে। ড্রোন যুদ্ধকে আরও কার্যকর করতে সেনাবাহিনী তাদের সাংগঠনিক কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আনছে। প্রতিটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের মধ্যে তৈরি করা হবে একটি করে নিবেদিত ড্রোন বা ‘অশনি’ প্লাটুন। এই প্লাটুন ড্রোন নজরদারি ও নির্ভুল হামলার দায়িত্বে থাকবে এবং ফ্রন্টলাইন ইউনিটগুলিকে সরাসরি সহায়তা দেবে। ফলে ড্রোন ব্যবহারের জন্য আর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপর অতটা নির্ভর করতে হবে না।
আরও পড়ুন: Bangladesh Political Violence: বিএনপি নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুড়ে মৃত্যু শিশুকন্যার
উল্লেখযোগ্যভাবে, পহেলগাম জঙ্গি হামলার পর শুরু হওয়া অপারেশন সিঁদুরে কামিকাজ়ি ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার হয়। প্রথম দিনেই নয়টি জঙ্গি ঘাঁটির মধ্যে সাতটি ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছিল, যা এই ড্রোনের নির্ভুলতা ও কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ৮৫০টি কামিকাজ়ি ড্রোনের এই দ্রুত ক্রয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভবিষ্যতের যুদ্ধে ড্রোন-ভিত্তিক কৌশল যে আরও বড় ভূমিকা নিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।


