Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ভবিষ্যৎ যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাবনা মাথায় রেখে নৌসেনার খোলনলচে আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে (Warships And Submarines)। লক্ষ্য একটাই—একসঙ্গে চিন ও পাকিস্তান, এই দুই প্রতিবেশী শত্রুপক্ষের মোকাবিলা করা। ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয় নৌসেনার হাতে থাকবে অন্তত ২০০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন।
বর্তমান সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা (Warships And Submarines)
বর্তমানে ভারতীয় নৌসেনায় (Indian Navy) রয়েছে প্রায় ১৪০টি যুদ্ধজাহাজ (Warships And Submarines)। এর মধ্যে রয়েছে ১৭টি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন, যদিও তার ১১টি যথেষ্ট পুরনো হয়ে গেছে। এছাড়া নৌবহরে আছে দু’টি পরমাণু শক্তিচালিত ও পরমাণু অস্ত্রবাহী ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন (SSBN) এবং দু’টি বিমানবাহী রণতরী—আইএনএস বিক্রান্ত ও আইএনএস বিক্রমাদিত্য।
এছাড়া, নৌসেনার কাছে ২৫০টিরও বেশি বিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সম্প্রসারণের গতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০৩৫ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা কঠিন হতে পারে।
নতুন পরিকল্পনায় মেক ইন ইন্ডিয়ার ছোঁয়া (Warships And Submarines)
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জাহাজ নির্মাণ কারখানায় কাজ চলছে (Warships And Submarines)। কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স ও মুম্বইয়ের মাজগাঁও ডকইয়ার্ডে নির্মাণাধীন রয়েছে ৫৫টি যুদ্ধজাহাজ। এর জন্য আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা। এছাড়া, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অংশ হিসাবে আরও ৭৪টি নতুন দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

নির্মাণাধীন ও পরিকল্পিত যুদ্ধজাহাজ (Warships And Submarines)
পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—
- ন’টি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন
- চারটি ১০ হাজার টনের পরবর্তী প্রজন্মের ডেস্ট্রয়ার
- সাতটি মাল্টি-রোল স্টেলথ ফ্রিগেট
- আটটি সাবমেরিন বিধ্বংসী কর্ভেট
- বারোটি মাইন কাউন্টার মেজার ভেসেল
- তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী নির্মাণ

আরও পড়ুন : Israeli Military Expand : গাজায় ইজরায়েলের স্থল অভিযান, রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে গণহত্যার অভিযোগ
আন্তর্জাতিক সমকক্ষতায় ভারত
দেশীয় প্রযুক্তিতে বিমানবাহী রণতরী নির্মাণের পরিকল্পনা সফল হলে ভারত দাঁড়িয়ে যাবে বিশ্বের শীর্ষ নৌশক্তিধর দেশগুলির সারিতে—আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সমকক্ষ স্থানে (Warships And Submarines)। এটি হবে ভারতের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
২০৩৭-এর সম্ভাবনা
নৌসেনার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে ২০৩৭ সালের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে থাকবে ২৩০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন। সেই সঙ্গে বিমান ও হেলিকপ্টারের সংখ্যা পৌঁছবে প্রায় ৪০০-র কাছাকাছি। এতে ভারত শুধু আঞ্চলিক শক্তি হিসেবেই নয়, বৈশ্বিক নৌশক্তি হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হবে।


