Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশজুড়ে যাত্রী নিরাপত্তা, আরামদায়ক ভ্রমণ এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিষেবা নিশ্চিত করতে বড়সড় রূপান্তরের পথে ভারতীয় রেল (Indian Railways)। পুরনো আইসিএফ কোচ ধাপে ধাপে সরিয়ে উচ্চ প্রযুক্তির এলএইচবি (লিঙ্কে–হফম্যান–বুশ) কোচে বদলে ফেলার কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। রেল সূত্রে দাবি, আগামী দিনে দেশের প্রতিটি দূরপাল্লার ট্রেনই সম্পূর্ণ এলএইচবি কোচে চলবে।

উৎপাদনে নজিরবিহীন বৃদ্ধি (Indian Railways)
চলতি অর্থবর্ষ ২০২৫–এর নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন রেল কোচ কারখানায় মোট ৪ হাজার ৪২৪টির বেশি এলএইচবি কোচ তৈরি হয়েছে। গত অর্থবর্ষের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, যাত্রীবাহী ট্রেনের আধুনিকীকরণে সরকারের অগ্রাধিকার এই পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।
উৎপাদনের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি, যেখানে তৈরি হয়েছে ১,৬৫৯টি কোচ। রায়বরেলির মডার্ন কোচ ফ্যাক্টরি–তে তৈরি হয়েছে ১,২৩৪টি এবং কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরি–তে ১,৩৩১টি কোচ। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪২ হাজার ৬০০–র বেশি এলএইচবি কোচ তৈরি হয়েছে। অথচ ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তৈরি হয়েছিল মাত্র ২ হাজার ৩০০টি। অর্থাৎ গত এক দশকে এলএইচবি উৎপাদনে বিপুল বৃদ্ধি ঘটেছে।

এলএইচবি কোচের প্রযুক্তিগত বিশেষত্ব (Indian Railways)
কী বিশেষত্ব এলএইচবি কোচে? জার্মান সংস্থা Alstom–এর নকশার উপর ভিত্তি করে তৈরি এলএইচবি কোচ প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক বেশি উন্নত।স্টেনলেস স্টিলের বডি, যা টেকসই এবং তুলনামূলক হালকা, উন্নত ডিস্ক ব্রেক ব্যবস্থা, ফলে দ্রুত ও নিরাপদ ব্রেকিং। ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে চলার সক্ষমতা, ‘অ্যান্টি-ক্লাইম্বিং’ সুরক্ষা প্রযুক্তি, যাতে দুর্ঘটনার সময় এক কামরা আরেকটির উপর উঠে না যায়। উন্নত সাসপেনশন ব্যবস্থা, ফলে যাত্রা আরও মসৃণ ও আরামদায়ক
প্রিমিয়াম ট্রেন থেকে সর্বত্র বিস্তার (Indian Railways)
রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, আইসিএফ কোচের তুলনায় এলএইচবি কোচ দুর্ঘটনায় কম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রাণহানির ঝুঁকিও কমায়।প্রথমে রাজধানী এক্সপ্রেস এবং শতাব্দী এক্সপ্রেস–এর মতো প্রিমিয়াম ট্রেনে আইসিএফ কোচের বদলে এলএইচবি চালু করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে মেল, এক্সপ্রেস ও দূরপাল্লার অধিকাংশ ট্রেনেই এই কোচ সংযোজন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় সব নতুন ট্রেনই এলএইচবি কোচে তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Uttar Pradesh: চলন্ত গাড়ির উপর হাইমাস্ট পোল! প্রতাপগড়ে চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা!
রেলের বক্তব্য, নিরাপত্তা ও পরিষেবার মানোন্নয়নই এখন প্রধান লক্ষ্য। শুধু গতি বৃদ্ধি নয়, যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য, কম শব্দ, উন্নত শৌচালয় ব্যবস্থা এবং আরও সুরক্ষিত ভ্রমণ নিশ্চিত করাই উদ্দেশ্য। সব মিলিয়ে, আইসিএফ যুগের অবসান ঘটিয়ে এলএইচবি–কেই ভবিষ্যতের মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে ভারতীয় রেল যেখানে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও আধুনিকতার সমন্বয়ে তৈরি হবে নতুন যুগের রেলযাত্রা।



