Last Updated on [modified_date_only] by Anustup Roy Barman
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আইএনএসভি কৌণ্ডিন্য (INSV Kaundinya) হল একটি সেলাই করা পালতোলা জাহাজ, যা অজন্তা গুহাগুলির চিত্রকর্মে চিত্রিত ৫ম শতাব্দীর একটি জাহাজের উপর ভিত্তি করে তৈরি।
করওয়ারে আনুষ্ঠানিক ভাবে যুক্ত হল ঐতিহ্যবাহী জাহাজ (INSV Kaundinya)
এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে, করওয়ার নৌঘাঁটিতে আজ ভারতীয় নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হল একটি বিশেষ প্রাচীন ধরনের জাহাজ (INSV Kaundinya)। এই ‘সেলাই করা’ প্রাচীন জাহাজটির নাম দেওয়া হয়েছে আইএনএসভি কৌণ্ডিন্য। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত।
এই বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের ঐতিহ্যবাহী জাহাজ নির্মাণ ঐতিহ্যকে নতুনভাবে সম্মান জানানো হয়েছে।

অজন্তা গুহাচিত্র থেকে অনুপ্রাণিত ঐতিহ্যবাহী জাহাজ (INSV Kaundinya)
আইএনএসভি কৌণ্ডিন্য (INSV Kaundinya) একটি বিশেষ ধরণের পালতোলা জাহাজ, যার নকশা নেওয়া হয়েছে খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীর অজন্তা গুহাচিত্রে দেখা এক জাহাজের আদলে। এই প্রকল্পটি শুরু হয় ২০২৩ সালের জুলাই মাসে, একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে; সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারতীয় নৌবাহিনী এবং হোডি ইনোভেশনস-এর মধ্যে। প্রকল্পে অর্থসাহায্য করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রক।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কিল স্থাপন করা হয়, অর্থাৎ জাহাজের ভিত্তি গঠনের কাজ শুরু হয়। কেরালার অভিজ্ঞ কারিগরদের একটি দল, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন মাস্টার শিপরাইট বাবু শঙ্করন, ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে কাঠের পাতগুলো নারকেলের দড়ি ও প্রাকৃতিক রেজিন ব্যবহার করে হাতে সেলাই করে জাহাজটি নির্মাণ করেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাহাজটি গোয়ায় জল নামানো হয়।
আরও পড়ুন: Operation Sindoor Diplomacy: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভারত, কেন ৩৩ দেশে কূটনৈতিক অভিযান?
জাহাজ নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা নেয় ভারতীয় নৌবাহিনী (INSV Kaundinya)
এই ঐতিহাসিক প্রকল্পে ভারতীয় নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে (INSV Kaundinya)। প্রাচীন এমন জাহাজের কোনও নকশা বা ব্লুপ্রিন্ট না থাকায়, নকশা নির্ধারণ করা হয়েছে বিভিন্ন শিল্পচিত্র থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে। নৌবাহিনী জাহাজ নির্মাতাদের সঙ্গে মিলে জাহাজের আকৃতি, রিগিং বা পাল তোলার ব্যবস্থাগুলি পুনর্গঠন করে।

নৌবাহিনী নকশাটি যাচাই করেছে আইআইটি মাদ্রাজের সমুদ্র ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের হাইড্রোডাইনামিক মডেল টেস্টের মাধ্যমে এবং নিজস্ব প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে।
সংস্কৃতিমূলক চিহ্নে পরিপূর্ণ আইএনএসভি কৌণ্ডিন্য
জাহাজটির পাল ও কাঠামোয় রয়েছে ভারতের প্রাচীন সামুদ্রিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন। পালে আঁকা আছে গন্দভেরুণ্ড (দুই মাথাওয়ালা পাখি) ও সূর্যের প্রতীক। জাহাজের সামনে রয়েছে সিংহ-আকারের যালির ভাস্কর্য। ডেকে রয়েছে হরপ্পা যুগের আদলে তৈরি পাথরের নোঙর। সবমিলিয়ে এটি একদম প্রাচীন ভারতীয় সামুদ্রিক ইতিহাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: Ashoka University professor:সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের, তদন্তে সিট
কৌণ্ডিন্যের নামে নামকরণ, যিনি প্রথম সমুদ্র পাড়ি দিয়ে গিয়েছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়
এই জাহাজটির নাম রাখা হয়েছে কৌণ্ডিন্য নামে, যিনি ভারতের এক প্রাচীন নাবিক, যিনি ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছেছিলেন। তাঁর নামেই জাহাজের নামকরণ করে ভারতের প্রাচীন সামুদ্রিক অন্বেষণ, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সংযোগের ইতিহাসকে সম্মান জানানো হয়েছে।
আইএনএসভি কৌণ্ডিন্য এখন করওয়ার ঘাঁটিতে থাকবে। সামনে জাহাজটি প্রস্তুতি নেবে একটি ঐতিহাসিক অভিযান শুরু করার জন্য। এই অভিযান হবে ভারতের প্রাচীন বাণিজ্যপথ ধরে গুজরাট থেকে ওমান পর্যন্ত সমুদ্রযাত্রা — যা নির্ধারিত হয়েছে এই বছরের শেষের দিকে।


