Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরানকে ঘিরে জারি সংঘাত ভারতের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও নাগরিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে(Iran India)। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালীর মত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে বিঘ্ন ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিপাকে ভারতীয় শেয়ারবাজার (Iran India)
মাত্র দুই দিনের মধ্যে ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ₹৯.৭ লক্ষ কোটি সম্পদ উধাও হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় টাকা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি ডলারে ৯২ ছাড়িয়ে রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমে গেছে। ভারতের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫–৯০ শতাংশ আমদানি করা হয়, যার প্রায় অর্ধেকই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। সংঘাতের কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮২.৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশে মূল্যবৃদ্ধি ও বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বাণিজ্য ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা
বাণিজ্য ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা লেগেছে। ইরান ভারতের অন্যতম বড় বাসমতি চাল আমদানিকারক হওয়ায় প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের রফতানি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গুজরাটের মোরবি সিরামিক শিল্পও সংকটে পড়েছে, কারণ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা প্রোপেন ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার কেপ অফ গুড হোপ ঘুরে যেতে হচ্ছে, ফলে যাত্রাপথে ২৫–৩০ দিন বেশি সময় লাগছে এবং পরিবহন খরচ ও বীমা ব্যয় বাড়ছে।
পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
মানবিক দিক থেকেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। হরমুজ প্রণালীর কাছে তেলবাহী জাহাজে হামলায় অন্তত তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং ১৫–২০ জন আহত হয়েছেন। ভারত সরকার ‘অপারেশন সিন্ধু’ চালু করে ইরান থেকে শত শত ভারতীয় ছাত্র ও কর্মীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে এনেছে।
কূটনৈতিক ভারসাম্যের নীতি অনুসরণ (Iran India)
এই পরিস্থিতিতে ভারত সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বদলে কূটনৈতিক ভারসাম্যের নীতি অনুসরণ করছে। একদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে জ্বালানি ও চাবাহার বন্দর প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতাও রক্ষা করছে।
আরও পড়ুন: JK Situation: উত্তেজনা ভুলে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে উপত্যকা, অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় হাই অ্যালার্ট জারি
তেলের দাম আরও বাড়তে পারে (Iran India)
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রায় ৯ মিলিয়ন ভারতীয়ের পাঠানো ৫০ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক রেমিট্যান্সও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত এখন সংলাপ ও কূটনীতিকেই প্রধান পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে।



