Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর রাশতে (কাস্পিয়ান সাগরের কাছে, তেহরান থেকে প্রায় ২০০ মাইল দূরে) চলতি মাসের শুরুতে বিক্ষোভকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনায় ভয়াবহ হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। একই সময় শহরের ঐতিহাসিক বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়(Iran)।
রাশতেও বিক্ষোভ তীব্র (Iran)
২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানজুড়ে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাশতেও বিক্ষোভ তীব্র হয়। দেশটির মুদ্রার ভয়াবহ পতনের পর থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ পরে সরকারের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়। রাশতে জানুয়ারির শুরুতে ছোট জমায়েত হলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় যখন ঐতিহাসিক বাজারের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটে নামেন।

নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি চালায়
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গোয়েন্দা সংস্থা ও বাসিজ বাহিনীর সদস্যরা দোকান খুলতে ব্যবসায়ীদের হুমকি দেয়। জানুয়ারি ৭ তারিখে বাজার এলাকায় মিছিল হয় এবং পরদিন সন্ধ্যায় হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে টিয়ার গ্যাস ছোড়া হলেও পরে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি চালায়।
বাজারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে (Iran)
গুলিবর্ষণের মধ্যেই আনুমানিক রাত ৯টার দিকে বাজারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বিক্ষোভকারী আশ্রয়ের জন্য বাজারের ভিতরে ঢুকলে আগুনে আটকে পড়েন। অভিযোগ ওঠে, আগুন থেকে পালানোর সময়ও নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। কয়েকজন জানান, কালাশনিকভসহ ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
আগুন নেভাতে বাধা বাহিনীর (Iran)
দু’জন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী দীর্ঘ সময় ফায়ার সার্ভিসকে আগুন নেভাতে বাধা দেয়। ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকান ও গাড়িতে। অন্তত ৩০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়।
আরও পড়ুন: Republic Parade: ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজ, একাধিক নতুন যুদ্ধাস্ত্র প্রদর্শন কর্তব্য পথে
৮০ জনের বেশি মৃত্যুর খবর (Iran)
সূত্রের খবর দুই দিনে রাশতের দুটি হাসপাতালে ৮০ জনের বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানায়, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তবে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এসব ঘটনার জন্য ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ ও ‘দাঙ্গাকারীদের’ দায়ী করেছে। রাশতের ঘটনা ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।



