Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : দুই দিক থেকে ঘিরে আসা বিদ্রোহে নাজেহাল পাকিস্তান (Khorasan Province)। এক দিকে বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ), অন্য দিকে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র ধারাবাহিক হামলায় বিপর্যস্ত ইসলামাবাদ (Shehbaz Sharif) এ বার আশ্রয় নিচ্ছে এক বিপজ্জনক কৌশলে – ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা’। পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (Inter-Services Intelligence) নাকি এখন আফগানিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট-খোরাসান (আইএসকে) এবং লশকর-এ-ত্যায়বা (LeT)-র মধ্যে সমঝোতা গড়ে তুলে বালোচ ও টিটিপির মোকাবিলায় নেমেছে — এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্র উদ্ধৃত করে একাধিক প্রতিবেদন।
আইএসকে-লশকর জোট গড়ার চেষ্টায় আইএসআই (Khorasan Province)
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক ছবিতে দেখা গেছে, আইএসকে নেতা মির শফিক মেঙ্গল-এর সঙ্গে লশকর কমান্ডার রানা মহম্মদ আশফাক উত্তর বালোচিস্তানে সাক্ষাৎ করছেন(Khorasan Province)। সেখানে মেঙ্গল ‘বন্ধুত্বের প্রতীক’ হিসেবে রানাকে একটি পিস্তল উপহার দিচ্ছেন। প্রতিবেদনে দাবি, এই বৈঠক আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামাবাদ চাইছে— আইএসকে ও লশকরকে একত্রিত করে টিটিপি ও বালোচ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে। একইসঙ্গে এই জোটের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী তৎপরতাও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে পাকিস্তানের।
আফগানিস্তানে তালিবান-আইএসকে দ্বন্দ্ব (Khorasan Province)
২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করে তালিবান ক্ষমতায় ফিরে আসে(Khorasan Province)। কিন্তু তার পর থেকেই আফগানিস্তানে সক্রিয় আইএস শাখা আইএস-খোরাসান (IS-K) তালিবান-বিরোধী হয়ে ওঠে। জাতিগতভাবে বিভক্ত আফগান সমাজে আইএসকে বরাবরই বহিরাগত, এবং তাদের উপর তালিবান বা পাকিস্তানের কোনও সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই। বরং, তালিবান নিজেই এখন আইএসকে দমন অভিযান চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, তালিবান শাসন প্রতিষ্ঠার পর ইসলামাবাদ-তালিবান সম্পর্কেও দেখা দিয়েছে গভীর টানাপড়েন। সিরাজুদ্দিন হক্কানি-র নেতৃত্বাধীন হক্কানি নেটওয়ার্ককে পাশে পেলেও কাবুল প্রশাসনের অন্য অংশ মহম্মদ হাসান আখুন্দ ও আব্দুল গনি বরাদর ক্রমে ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন নয়াদিল্লির সঙ্গে। এই অবস্থায় পাকিস্তান চাইছে বিকল্প ইসলামপন্থী মৈত্রী জোটের মাধ্যমে প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে।

নতুন যৌথ ফ্রন্টে ভয় বাড়াচ্ছে বিএলএ(Khorasan Province)
গত কয়েক মাসে বালোচিস্তানে হামলার মাত্রা বেড়েছে। কাচ্চি বোলান রেললাইন ছিনতাই, কোয়েটায় ফ্রন্টিয়ার কোরে আইইডি বিস্ফোরণ, নোশকিতে আত্মঘাতী হামলা— সবক’টির পেছনেই রয়েছে বিএলএ-এর মজিদ ব্রিগেড(Khorasan Province)। এই মার্চেই বিএলএ একত্র হয়েছে আরও দুই সংগঠন— বালোচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট (বিএলএফ), বালোচ রিপাবলিকান গার্ডস (বিআরজি) এবং সিন্ধুপ্রদেশের সিন্ধুদেশ রেভলিউশনারি আর্মি (এসআরএ)-র সঙ্গে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, ভারত নাকি এই একজোট বিদ্রোহকে গোপনে উৎসাহ দিচ্ছে।

আরও পড়ুন : Navi Mumbai Airport : নবি মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
টিটিপির উত্থান ও পাক সেনার অচলাবস্থা (Khorasan Province)
অন্যদিকে, প্রায় দেড় দশক ধরে পাক সেনার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী লড়াই চালাচ্ছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। ২০২২ সালে শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চল পরিণত হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে(Khorasan Province)। মাত্র কয়েক দিন আগেই কুররাম জেলায় টিটিপির হামলায় এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল, এক মেজর-সহ ১১ সেনা নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান সরাসরি অভিযোগ করেছে, আফগান তালিবানের একাংশ টিটিপিকে মদত দিচ্ছে।
ভেতরে-বাইরে চাপের মুখে ইসলামাবাদ
আইএসআই এখন টিটিপি ও বিএলএ-কে “রাষ্ট্রবিরোধী ফিতনা”— ‘ফিতনা আল খোয়ারিজ’ ও ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’— হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, নিজের তৈরি আগুন নেভাতে ইসলামাবাদ যদি আরেক জঙ্গি সংগঠনকে হাতিয়ার বানায়, তবে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বাড়বে।


