Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এক সময় পর্যটনের মানচিত্রে কেরল, রাজস্থান, গুজরাট কিংবা কাশ্মীরের নামই প্রথমে উঠে আসত (Jagannath Dham)। কিন্তু সেই চেনা ছবিটা এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। নজির গড়ে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে দেশের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুরিজম ডেটা কম্পেন্ডিয়াম–২০২৫ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা এখন ৩১ লক্ষ ২০ হাজার। প্রথম স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র, তার ঠিক পরেই বাংলা। আর এই দ্বিতীয় স্থানেই থেমে থাকতে রাজি নয় রাজ্য এবার এক নম্বর হওয়ার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে।

পর্যটনের নতুন মেরুকেন্দ্র (Jagannath Dham)
বাংলার এই অভূতপূর্ব সাফল্যের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছে দিঘার জগন্নাথধাম। সৈকতনগর দিঘায় গড়ে ওঠা এই আন্তর্জাতিক মানের ধর্মীয় কেন্দ্র ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে বিরাট আকর্ষণ। ডিসেম্বরের শেষেই জগন্নাথধামের দর্শনার্থীসংখ্যা কোটির গণ্ডি ছুঁয়েছে। শুধু ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দিঘায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার। ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাসের দাবি, আগামী মাত্র ছ’মাসের মধ্যেই দিঘায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। বিশেষ করে গৌড় পূর্ণিমা উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নবদ্বীপ-ধাম পরিক্রমায় লক্ষাধিক বিদেশির অংশগ্রহণ বাংলার পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য ও প্রভুপাদের স্মৃতিবিজড়িত প্রায় ষাটটি স্থান পরিক্রমার পর অধিকাংশ বিদেশি পর্যটকই দিঘায় এসে জগন্নাথদেব দর্শন করবেন এমনটাই চূড়ান্ত হয়েছে।

পরিসংখ্যানেই সাফল্যের প্রমাণ (Jagannath Dham)
পর্যটনের ক্ষেত্রে বাংলার এই উত্থান শুধু কথায় নয়, পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। ২০২২ সালে যেখানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০ লক্ষ, সেখানে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ লক্ষ ২০ হাজারে। একই সময়ে ডোমেস্টিক টুরিস্ট অ্যারাইভাল বেড়েছে ৮.৮ কোটি থেকে লাফিয়ে ২৩.৯৪ কোটিতে। অর্থাৎ, রাজ্যে পর্যটকের সংখ্যা কার্যত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
সরকারের পরিকল্পনা ও বাজেটের জোর (Jagannath Dham)
এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও সরকারি বিনিয়োগ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই পর্যটনকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে অন্তর্বর্তী বাজেটে পর্যটন খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৫২৫.৯২ কোটি টাকা। বাজেটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যের চারশোরও বেশি ধর্মীয় স্থানকে একশোর বেশি ধর্মীয় পর্যটন সার্কিটে ভাগ করে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এই সার্কিটগুলির মধ্যমণি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে। পুণ্যার্থীদের থাকা, খাওয়া, যাতায়াত ও নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার দিকে জোর দেওয়া হয়েছে।

দুর্গাপুজো থেকে রেড রোড কার্নিভাল (Jagannath Dham)
বাংলার পর্যটন মানেই শুধু পাহাড়, সমুদ্র বা মন্দির নয় এ রাজ্যের সবচেয়ে বড় শক্তি তার সংস্কৃতি। ইউনেসকোর স্বীকৃতি পাওয়া দুর্গাপুজো আজ বিশ্বায়িত উৎসব। রেড রোডে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মানের দুর্গাপুজো কার্নিভাল বিদেশি পর্যটকদের কাছে কার্যত চুম্বকের মতো কাজ করছে। সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আধুনিক আয়োজনের এই মেলবন্ধনই বাংলাকে অন্য রাজ্যগুলির থেকে আলাদা করে তুলছে।
টেকসই পর্যটনের ভিত (Jagannath Dham)
পর্যটনের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানের দিকেও সমান নজর দিয়েছে রাজ্য সরকার। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি নথিতে নথিভুক্ত হয়েছে ৫৪০৯টি হোম স্টে। বন দপ্তর স্বীকৃতি দিয়েছে ৪০১টি এবং আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগ ২৩৯১টি হোম স্টেকে মান্যতা দিয়েছে। উন্নত পরিষেবার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে ২৪০ জন টুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার। পাশাপাশি, পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে ২৪৫০ জন প্রশিক্ষিত টুরিস্ট গাইডকে কাজে লাগানো হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় মানুষের আয় বাড়ার পাশাপাশি পর্যটনও হয়ে উঠছে আরও বন্ধুত্বপূর্ণ ও পেশাদার।

আরও পড়ুন: Mid Day Meal Bihar: মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ ৭০ পড়ুয়া, বিহারের স্কুলে চাঞ্চল্য!
নতুন গন্তব্যের খোঁজে বাংলা
পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে মাইস ট্যুরিজম। শুধু ভারত নয়, গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেই এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠছে বাংলা। একই সঙ্গে রাজ্য পর্যটন নিগম পাহাড়, সমুদ্র ও জঙ্গলমহল মিলিয়ে ২০০-রও বেশি ট্যুর প্যাকেজ চালু করেছে। ঐতিহাসিক বিষ্ণুপুরে নতুন সরকারি প্যাকেজ ট্যুর চালুর প্রস্তুতি চলছে। শান্তিনিকেতনেও বিশেষভাবে ডিজাইন করা নতুন পর্যটন প্যাকেজ আনার কাজ শুরু হয়েছে, যাতে রবীন্দ্রনাথের ভাবনায় গড়া এই স্থান আরও বেশি করে আন্তর্জাতিক পর্যটকের মানচিত্রে উঠে আসে।



