Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্ব রাজনীতিতে এখন শক্তির মাপকাঠি শুধু সামরিক ক্ষমতা বা অর্থনীতি নয়, বরং প্রযুক্তি (Artificial Intelligence)। সিলিকন, সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম মেধা (এআই) প্রযুক্তি আজকের বিশ্বের কৌশলগত অস্ত্র। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোট যার মূল লক্ষ্য চিনের প্রযুক্তিগত প্রভাব ও সরবরাহ শৃঙ্খলে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমানো। সম্প্রতি নয়াদিল্লির এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে ভারত এই জোটের ঘোষণাপত্রে সই করে আনুষ্ঠানিক ভাবে যুক্ত হয়েছে।

‘প্যাক্স সিলিকা’ কী এবং কেন? (Artificial Intelligence)
‘প্যাক্স সিলিকা’ নামটি এসেছে ‘প্যাক্স আমেরিকানা’ ধারণা থেকে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থার কথা বলা হয়। এখানে ‘সিলিকা’ শব্দটি সিলিকন বা সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির প্রতীক। এই জোটের লক্ষ্য, সেমিকন্ডাক্টর ও এআই প্রযুক্তির সরবরাহ শৃঙ্খলকে বৈচিত্র্যময় করা, বিরল খনিজ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণে বিকল্প পথ তৈরি করা, চিনা কোম্পানি ও উৎপাদনের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা, বিশ্বব্যাপী চিপ উৎপাদন ও কাঁচামালের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে চিনের প্রভাবাধীন। ফলে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগ।
কারা রয়েছে এই জোটে? (Artificial Intelligence)
আমেরিকার পাশাপাশি এই জোটে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং অস্ট্রেলিয়া। এখন সেই তালিকায় যুক্ত হল ভারত। এই দেশগুলি সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা, চিপ উৎপাদন, লিথোগ্রাফি প্রযুক্তি, বিরল খনিজ এবং এআই উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে সম্মিলিত ভাবে তারা একটি বিকল্প, স্থিতিশীল ও নিরাপদ প্রযুক্তি সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে সক্ষম।

কৌশলগত তাৎপর্য (Artificial Intelligence)
ভারতের জন্য এই জোটে যোগ দেওয়া বহুমাত্রিক গুরুত্ব বহন করে—
১. প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পথে অগ্রগতি (Artificial Intelligence)
ভারত ইতিমধ্যেই সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। দেশীয় চিপ ম্যানুফ্যাকচারিং, ডিজাইন ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এই জোটের মাধ্যমে ত্বরান্বিত হতে পারে।
২. এআই-তে বৈশ্বিক ভূমিকা (Artificial Intelligence)
এআই ক্ষেত্রে ভারত দ্রুত এগোচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং ডেটা-ভিত্তিক পরিষেবার কারণে ভারত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। ‘প্যাক্স সিলিকা’ ভারতের এআই কৌশলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী করবে।
৩. সরবরাহ শৃঙ্খলের বৈচিত্র্য
বিরল খনিজ ও চিপ সরবরাহে বৈচিত্র্য আনা ভারতের শিল্পক্ষেত্রকে স্থিতিশীলতা দেবে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, টেলিকম, অটোমোবাইল ও ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স শিল্পে এর প্রভাব পড়বে।

আরও পড়ুন: Kolkata: কবীর সুমনের উদ্বোধনে একুশের বইমেলা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে লায়েলকা মাঠে
বাণিজ্যের সমীকরণ (Artificial Intelligence)
প্রযুক্তি এখন কেবল অর্থনীতির অংশ নয়, বরং ক্ষমতার অন্যতম নিয়ামক। যে দেশ উন্নত চিপ ও এআই প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকবে, সে-ই ভবিষ্যৎ বিশ্বব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করবে। ‘প্যাক্স সিলিকা’ মূলত একটি প্রযুক্তি-নির্ভর ভূ-রাজনৈতিক জোট। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন কাটার পরই এই ঘোষণা এসেছে। ফলে এটি কূটনৈতিক সম্পর্কেরও একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।
চিনের প্রেক্ষাপট
চিন দীর্ঘদিন ধরে সেমিকন্ডাক্টর ও বিরল খনিজের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। পশ্চিমা দেশগুলি মনে করছে, অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বিকল্প জোট গড়ে তুলেই ভারসাম্য আনার চেষ্টা। তবে এই উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে। প্রযুক্তিগত ব্লক রাজনীতি বিশ্ব অর্থনীতিকে দুই বা ততোধিক ভাগে বিভক্ত করতে পারে যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি।



