Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: “আন্দোলনে শেষ থাকে না, থাকে শুধু শুরুওয়াত”- এই গানের (Kalatan Dasgupta Interview) কথাকেই পাথেয় করে বোধ হয় বামপন্থীরা বারবার ফিরে আসেন লড়াইয়ের ময়দানে। শূন্য থেকেও নির্বাচনের ময়দানে বারবার রুখে দাঁড়িয়েছেন তারা। জয় না হোক রাজ্যে বিরোধী দল হিসেবেও জায়গা করে নিতে পারেনি সিপিআইএম। তবু লড়াই-লড়াই-লড়াই চেয়েছে লাল ঝান্ডা ধরা জন প্রতিনিধিরা। আর নির্বাচনের এই উত্তপ্ত আবহে পানিহাটি থেকে সিপিআইএম প্রার্থী করা হয়েছে কলতান দাশগুপ্তকে। কেটিভি বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কী বললেন তিনি?
নির্বাচনের লড়াই কতটা কঠিন? (Kalatan Dasgupta Interview)
বামপন্থীদের জন্য লড়াই সবসময় (Kalatan Dasgupta Interview) চ্যালেঞ্জিং। দেশের শাসকদল, রাজ্যের শাসকদল মানুষকে যে ভুল বোঝাচ্ছে ,মানুষ ভাগের রাজনীতি, মানুষের চাকরি চলে যাচ্ছে, এই যে দুর্নীতি, তার বিরুদ্ধে লড়াই সবসময় চ্যালেঞ্জিং। আর বামপন্থীরা সবসময় সেই চ্যালেঞ্জকে অ্যাকসেপ্ট করেই আসছে।
কোন কোন ইস্যুগুলোকে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? (Kalatan Dasgupta Interview)
মানুষের হাতে কাজ নেই। এলাকায় পুরো পরিষেবা (Kalatan Dasgupta Interview) বিপর্যন্ত। জঞ্জাল, জল জমা, মশা, বাজে রাস্তা ভয়ঙ্কর বাজে অবস্থা। পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করব বলেও করা হয়নি। এর পাশাপাশি স্টেট জেনারেল হাসপাতালের অবস্থা, প্রোমোটারি সিন্ডিকেট নিয়ে মানুষ সোচ্চার হচ্ছেন, এখানকার বিশাল বড় মাঠ অমরাবতী সেটাকে বিক্রি করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। সাধারণ মানুষ, বামপন্থীরা সেটার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এদের বিরুদ্ধে বিকল্প একমাত্র বামপন্থীরাই, তাই বামপন্থীদের ভোট দিন।
মানুষের সাড়া কেমন পাচ্ছেন? (Kalatan Dasgupta Interview)
জনগণের প্রতিক্রিয়া ভালো। মানুষ বলছে যে আগে যাদের ভোট দিয়েছিলাম, তারা কোনও কাজ করেনি, নিজেদের পেল্লাই বাড়ি বানিয়েছে। মানুষ ভাগের রাজনীতি করেছে, মারামারি লাঠালাঠি করেছে। অন্তর্দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি এমন যে এলাকার কাউন্সিলরকে গুলিতে খুন হতে হয়েছে। এসব বিষয়েরই বিকল্প খুঁজছে মানুষ।

বিগত কয়েক বছর ধরেই লালের হাল ফেরাতে মিটিং (Kalatan Dasgupta Interview) মিছিলে সমর্থকদের ভিড় চোখে পড়ার মত। কিন্তু ভোট বাক্সে সেই প্রভাব পড়তে দেখা যায় না। এই প্রসঙ্গেও বরাবরের মত অকপট কলতান। তাঁর কথায়, “বিজেপির মিটিং মিছিলে লোক হয়না কেন সেই প্রশ্নের উত্তর ওরা দিয়েছে কখনও? তৃণমূলের তো প্রার্থী পরিচয় করাতে হচ্ছে কর্পোরেশন থেকে লোক এনে। আগে সেই প্রশ্নের উত্তর দিক ওরা।”
এসআইআর ইস্যুতে লড়াই প্রসঙ্গে কলতান বলেন, “এসআইআর-এর লড়াই টাই মানুষের মনে প্রভাব ফেলবে। মোস্তারী বানু মামলা করেছিলেন নভেম্বর মাসে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এটা একটা বিপদ হবে। সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বেরোচ্ছে, ধর্ম, জাত টার্গেট করে মানুষদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষদের নামও বাদ দেওয়া হচ্ছে। পানিহাটিতে ধর্মীয় সংখ্যাগুরুদের নাম বাদ দেয় হচ্ছে। তাহলে বিজেপি যখন বলেছিল এদের ভয় নেই, ওদের ভয় নেই, তাহলে কেন রাজবংশী, মতুয়া, সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মানুষের নাম কেন বাদ যাচ্ছে, তার উত্তর কিন্তু বিজেপিকেই দিতে হবে। ফলে এসআইআর যে একটা মানুষ ভাগের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, বিজেপি যে সেটা করছে এবং তৃণমূল যে সেটা আটকাতে চায়নি, সেটা তো দিনের আলোর মত পরিষ্কার। কেরালাতেও এসআইআর হয়েছে, সরকারি কর্মীরা করেছে, সেখানে তো কোনও সমস্যা হয়নি। আমরা টেবিল, চেয়ার পেতে রাস্তায় বসে হলেও মানুষকে সাহায্য করব। যাতে একজন বৈধ ভোটারদের নামও বাদ না যায়, সেই চেষ্টাই আমরা করব।”
বিরোধী প্রার্থীদের (Kalatan Dasgupta Interview) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শ্রীমতি রত্না দেবনাথ অভয়ার তদন্তের দাবিতে ৫০টি প্রশ্ন করেছিলেন সিবিআইকে। সেই উত্তর এখনও পায়নি। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এখনও দেখা হয়নি। সিবিআই-এর হলফনামা কেন বদলে গেছিল সেই প্রশ্নও রত্না দেবনাথ করেছিলেন, সেই উত্তরও এখনও পাননি। সেই প্রশ্নের উত্তরের জন্য লড়াই এখনও চলছে। আর বিজেপি যে বাড়িতে ধর্ষকদের মালা পরিয়ে নিয়ে যায় সেটা তো আমরা দেখেছি। ভারতবর্ষের পদকপ্রাপ্ত মহিলাদের উপর বিজেপির নেতারা কি অত্যাচার করেছে তাও আমরা দেখেছি। বিজেপির নেতারা মহিলাদের বাড়ির ভেতরে ঢুকিয়ে রাখতে চায়। আর তৃণমূল সরকারের আমলে নারী নির্যাতনে পশ্চিমবঙ্গ হু হু করে এগিয়ে তো চলছেই, তাই এর বিরুদ্ধে বামপন্থীরাই একমাত্র বিকল্প।” তিনি আরও বলেন, “কে কোন রাজনৈতিক দল করবেন সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা গাড়ি আটকাবার সময়, রাত দখলের সময় দেখিনি কে কোন রাজনীতি করে। আমরা দরকার হলে কবর থেকে ফাইল বার করে এনে তদন্ত করব।”
আরও পড়ুন: IIT Baba: সরল জীবনেই মুগ্ধ সঙ্গিনী, সন্ন্যাস ছেড়ে বিয়ে করলেন আইআইটি বাবা!
সংসদীয় রাজনীতিতে কি এই প্রথম? অভিজ্ঞতা কেমন?
“হ্যাঁ প্রার্থী হিসেবে এই প্রথম। কিন্তু প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই ২০০৩ সাল থেকে চলছে। এটা একটা রাজনীতির অংশ। আমরা সবাই দলগতভাবে কাজ করব। অন্য কেউ প্রার্থী হলে আমিও তার পেছনে লিফলেট নিয়ে ঘুরব। আমি প্রার্থী হয়েছি বলে অন্য কেউ যে কম যোগ্য সেটা নয়।”
রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে কলতানের ডায়েট কী?
“ভোট আসলেই প্রার্থী কি খায় না খায় তা জানার জন্য একটা কৌতূহল তৈরী হয়। কিন্তু প্রার্থী তো নিজে খাবার জন্য ভোটে দাঁড়ান না। যেই মানুষরা ভোট দেবেন তারা দুবেলা দুমুঠো ভালো করে খেতে পাবেন কিনা সেটা নিশ্চিত করার জন্যই ভোটে দাঁড়ান। মানুষ যাতে খেতে পায়, সেটা নিশ্চিত করাই প্রার্থীর কাজ। আমি কি খেলাম না খেলাম সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
একদিকে বিজেপি, অন্যদিকে তৃণমূল, এই বাইনারি কী ভাঙতে পারবে?
“সকালে ভীষণ গরম, কিন্তু কেউ বলতেও পারবেনা সন্ধ্যায় এমন বৃষ্টি হবে যেখানে পানিহাটির পুরো রাস্তা জলে ডুবে যাবে। ওই যে অভাবনীয় একটা ঘটবে, সেটা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বামপন্থীদের জন্য তাই হবে।”
জেতার ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী?
“১০০% আত্মবিশ্বাসী। মানুষের দুঃখ-দৈন্য-দুর্দশার পাশে লাল ঝান্ডা নিয়ে বামপন্থীরাই দাঁড়াবে।”


