Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটাই কেন্দ্রবিন্দু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন (Kangana Ranaut)। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি দলই নিজেদের কৌশল সাজাতে ব্যস্ত। বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবার এক ভিন্ন পথে হাঁটছে তারকা প্রচারকদের সামনে রেখে ভোটযুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে গেরুয়া শিবির।

রাজনীতিতে বিনোদন দুনিয়ার প্রবেশ (Kangana Ranaut)
বিজেপির প্রকাশিত ৪০ জন তারকা প্রচারকের তালিকায় রয়েছেন একাধিক চেনা মুখ। বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত থেকে শুরু করে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী হেমা মালিনী, বাংলার গর্ব মিঠুন চক্রবর্তী সবাই রয়েছেন এই তালিকায়। পাশাপাশি ক্রীড়াজগতের তারকা লিয়েন্ডার পেজ-ও রয়েছেন প্রচারের ময়দানে। এই তালিকার শীর্ষে স্বাভাবিকভাবেই রয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁদের উপস্থিতি নির্বাচনী প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
ধর্মীয় আবহে রাজনৈতিক বার্তা (Kangana Ranaut)
মঙ্গলবার কলকাতা-য় পৌঁছে কঙ্গনা রানাউত প্রথমেই যান কালীঘাট মন্দির-এ। সেখানে পুজো দিয়ে তিনি বাংলার নারীদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের জন্য প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি নকুলেশ্বর ভৈরব মন্দির-এ গিয়েও পুজো দেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক ইঙ্গিত ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা। তিনি নিজেকে ‘শক্তির উপাসক’ বলে উল্লেখ করে বলেন, বাংলার মেয়েদের সুরক্ষা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বহিরাগত ইস্যু কি আবার উঠবে? (Kangana Ranaut)
বিজেপির তারকা প্রচারকের তালিকায় অধিকাংশই দিল্লি বা অন্য রাজ্যের নেতা-নেত্রী। এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীদের দাবি এতে প্রমাণ হয়, বাংলায় বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি এখনও দুর্বল। ‘বহিরাগত’ ইস্যু যে বাংলার রাজনীতিতে আগে বড় ফ্যাক্টর হয়েছে, তা নতুন নয়। ফলে এই কৌশল বিজেপির পক্ষে লাভজনক হবে নাকি উল্টো ফল দেবে তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে।
কৌশল নাকি দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা? (Kangana Ranaut)
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই তারকা নির্ভর প্রচার আসলে সংগঠনের ঘাটতি ঢাকার চেষ্টা। সাত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং তারকা সাংসদদের এনে প্রচার চালানো এ যেন শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি দুর্বলতার ইঙ্গিতও বহন করছে। অন্যদিকে বিজেপির মতে, এটি তাদের সর্বভারতীয় শক্তির পরিচয়। তারা মনে করছে, জাতীয় নেতৃত্ব এবং জনপ্রিয় মুখগুলো ভোটারদের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আরও পড়ুন: IIT Baba: সরল জীবনেই মুগ্ধ সঙ্গিনী, সন্ন্যাস ছেড়ে বিয়ে করলেন আইআইটি বাবা!
২০২৬ কি টার্নিং পয়েন্ট?
২০২৬-এর নির্বাচনকে বিজেপি কার্যত ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ হিসেবে দেখছে। গত কয়েক বছরে বাংলায় সংগঠন বিস্তার করলেও ক্ষমতার দোরগোড়ায় পৌঁছতে পারেনি তারা। তাই এবার সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি স্পষ্ট। প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে তারকা প্রচারকদের ঝলক কি সত্যিই ভোটে রূপান্তরিত হবে? নাকি স্থানীয় ইস্যু, সংগঠন এবং নেতৃত্বই শেষ কথা বলবে?



