Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ডিজিটাল যুগে কনটেন্ট তৈরির স্বাধীনতা যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে দায়বদ্ধতার প্রশ্নও (Karan Johar)। সম্প্রতি বলিউড নির্মাতা ও সঞ্চালক করণ জোহরের করা মানহানির মামলায় জনপ্রিয় ইউটিউবার অজয় নাগর ওরফে ‘ক্যারি মিনাটি’-র বিরুদ্ধে আদালতের রায় সেই বিতর্ককেই নতুন করে সামনে আনল। ‘কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানের আদলে তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওকে ঘিরে আইনি জটিলতা তৈরি হয়, যার নিষ্পত্তিতে আদালত করণের পক্ষেই রায় দেয়।
‘কফি উইথ জালান’ (Karan Johar)
অজয় নাগর তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে ‘কফি উইথ জালান’ নামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। করণ জোহরের দাবি, ভিডিওটি তাঁর জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এর অনুকরণে তৈরি এবং এতে তাঁর ব্যক্তিত্ব, ভাবমূর্তি ও পেশাগত পরিচিতিকে আঘাত করা হয়েছে। ভিডিওতে বলিউডে স্বজনপোষণ (নেপোটিজম) প্রসঙ্গ টেনে করণকে লক্ষ্য করে নানা কটূক্তি ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। করণের মতে, এটি শুধুমাত্র ব্যঙ্গ নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানহানি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ (Karan Johar)
মামলাটি বিচারপতি পাণ্ডুরঙ্গ ভোঁসলের বেঞ্চে ওঠে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আদালত নির্দেশ দেয়, সংশ্লিষ্ট ভিডিও অবিলম্বে ডিলিট করতে হবে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কনটেন্ট আপলোডের ক্ষেত্রে সংযত থাকতে হবে, মানহানিকর বা বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন এড়াতে হবে, আদালতের এই রায়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তা যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন ভাষার মাধ্যমে কারও সম্মানহানি না ঘটায়।
অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা (Karan Johar)
‘মিনটি ক্যারি’ চ্যানেলের তরফে জানানো হয়েছে, ভিডিওটি ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে সমস্যা এখানেই শেষ নয়। ভিডিওটির বিভিন্ন অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল বা ক্লিপ আকারে এখনও ঘুরছে। এই পরিস্থিতিতে আদালত শুধু নির্দিষ্ট চ্যানেলের বিরুদ্ধেই নয়, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ‘জন ডো’ আদেশ জারি করেছে। অর্থাৎ, যারা ভিডিওটির অংশবিশেষ ছড়াচ্ছেন বা পুনরায় আপলোড করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
ব্যঙ্গ না মানহানি! (Karan Johar)
এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা কোথায় শেষ হয়, আর মানহানি কোথা থেকে শুরু হয়? ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট নির্মাতারা প্রায়ই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইস্যু নিয়ে তীক্ষ্ণ সমালোচনা করেন। কিন্তু যখন সেই সমালোচনায় ব্যক্তিগত কটূক্তি, অশালীন ভাষা বা ভাবমূর্তির ক্ষতি করার মতো উপাদান থাকে, তখন তা আইনি জটিলতায় জড়াতে পারে। ভারতে মানহানি আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ণ করার মতো মিথ্যা বা অপমানজনক মন্তব্য করলে তা দেওয়ানি বা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

আরও পড়ুন: Bikash Bhawan Abhijan: টাকা বাড়লেই মিটবে পার্শ্বশিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
ডিজিটাল কনটেন্টের যুগে দায়বদ্ধতা
ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ফলে একটি ভিডিও সরিয়ে ফেললেও তার অংশবিশেষ বহু জায়গায় থেকে যেতে পারে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই আদালতের ‘জন ডো’ নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল একজন নির্মাতা বনাম একজন ইউটিউবারের লড়াই নয়; বরং এটি ডিজিটাল দায়বদ্ধতার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।



