Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কর্ণাটক রাজ্য পুলিশে দীর্ঘকালীন সেবা করা একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা (Karnataka), ডিজিপি পদমর্যাদার রামচন্দ্র রাও, সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর বিতর্কের মুখে পড়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর ভিত্তিতে রাজ্য সরকার তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণমাধ্যমিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ রাও শুধু একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা নন, তিনি কন্নড় অভিনেত্রী ও স্বর্ণ পাচারের মামলার অভিযুক্ত রান্যা রাওয়ের পিতা হিসেবেও পরিচিত।

অভিযোগ ও বিতর্ক (Karnataka)
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, রামচন্দ্র রাওকে তার অফিসের ভেতরে বিভিন্ন মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আচরণ করতে। সূত্রের দাবি, ভিডিওটি অফিসের ভেতরেই গোপনে রেকর্ড করা হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পরই রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। রাও অবশ্য এই ভিডিওর সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “এই ভিডিওটি সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভুয়ো। আমাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এটি অনেক আগের, আট বছর পূর্বের ঘটনা, এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হওয়া উচিত।” তিনি আরও জানান, তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়া (Karnataka)
ভাইরাল ভিডিওটি দেখার পর মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেন। রিপোর্টের পরের দিনই রাজ্য সরকার রামচন্দ্র রাওকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দেয়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল, পুলিশ দপ্তরের ভেতরে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে এবং এর পেছনে দায় কার, তা স্পষ্টভাবে জানাতে। এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণত পুলিশ প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাও’র প্রতিক্রিয়া ও আইনি উদ্যোগ (Karnataka)
রামচন্দ্র রাও বরখাস্তের পর রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন এবং নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভিডিও সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া সত্য প্রকাশ্যে আসতে পারে না।” তিনি আরও জানিয়েছেন, তার আইনজীবী দল ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন: Mumbai: মুম্বইয়ে ফের রিসর্ট রাজনীতি: বিএমসি জিততে প্রতিনিধিদের পাঁচতারা হোটেলে পাঠাল শিন্ডে শিবসেনা
সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হওয়া এবং শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার নাম জড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক মহলও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। এছাড়াও এই ঘটনা পুলিশের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। শীর্ষ কর্মকর্তার এমন বিতর্কিত ঘটনায় জনগণের আস্থা ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।



