Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: স্কুলে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক নয় এই মর্মে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল (Karnataka High Court)। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকায় কোথাও ‘বাধ্যতামূলক’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি, বরং বলা হয়েছে ‘বন্দে মাতরম গাওয়া যেতে পারে’। ফলে এটিকে বাধ্যতামূলক হিসেবে ব্যাখ্যা করার কোনও সুযোগ নেই।

জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষাপট (Karnataka High Court)
এই মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি Vibhu Bakhru এবং বিচারপতি C M Poonacha-এর ডিভিশন বেঞ্চে। আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে জানায়, আবেদনকারী যে অভিযোগ তুলে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন, তা প্রমাণ করার মতো কোনও স্পষ্ট তথ্য বা নথি তিনি পেশ করতে পারেননি। ফলে মামলাটি গ্রহণযোগ্য নয় বলেই মত আদালতের এবং সেটি খারিজ করে দেওয়া হয়।
প্রমাণহীন আশঙ্কায় PIL গ্রহণযোগ্য নয় (Karnataka High Court)
উল্লেখ্য, এক সমাজকর্মী এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে দাবি করেছিলেন যে, ‘বন্দে মাতরম’-এর সমস্ত স্তবক স্কুলে গাওয়ার যে প্রোটোকল বা নির্দেশিকা জারি হয়েছে, তা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্য ছিল, গানটির কিছু অংশে দুর্গা, বাণী (সরস্বতী) এবং কমলা (লক্ষ্মী)-র উল্লেখ রয়েছে, যা হিন্দু ধর্মীয় ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত। এর ফলে অন্য ধর্মাবলম্বী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে এবং তা তাঁদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

প্রোটোকল, বাধ্যবাধকতা নয় (Karnataka High Court)
আবেদনকারী আরও দাবি করেন, সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় ভাবধারার উপাদানযুক্ত গান বা প্রথা বাধ্যতামূলক করা হলে তা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হতে পারে। পাশাপাশি, স্কুলের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এই ধরনের নির্দেশ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। তাই তাঁর প্রস্তাব ছিল, স্কুলগুলিতে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবকের পরিবর্তে শুধুমাত্র প্রথম দুটি স্তবক গাওয়া হোক।
তবে শুনানির সময় আদালত স্পষ্ট করে দেয়, এই সমস্ত যুক্তির পক্ষে কোনও বাস্তব বা প্রামাণ্য তথ্য আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। আদালতের মতে, শুধুমাত্র সম্ভাব্য আশঙ্কা বা অনুমানের ভিত্তিতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা যায় না। একটি PIL গ্রহণযোগ্য হতে হলে সুস্পষ্টভাবে কোনও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ থাকা জরুরি, যা এই ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজে প্রভাব (Karnataka High Court)
ডিভিশন বেঞ্চ আরও জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকাটি একটি ‘প্রোটোকল’ বা গাইডলাইন মাত্র। এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনও কঠোর বাধ্যবাধকতা নেই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী নমনীয়তা বজায় রাখতে পারে। তাই এই মুহূর্তে আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নেই বলেই মত তাদের।
আরও পড়ুন: Matua: শাহকে রুটি-পায়েস খাইয়েও স্বপ্নভঙ্গ! সেই নবীন বিশ্বাসই এবার তৃণমূলের মিছিলে
এই রায়ের ফলে আপাতত স্কুলগুলিতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার যে প্রচলিত প্রোটোকল রয়েছে, তা আগের মতোই বহাল থাকছে এবং এ বিষয়ে কোনও স্থগিতাদেশ জারি করা হয়নি। তবে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’কে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়, এবং এই রায়ের পরেও বিষয়টি নিয়ে মতভেদ ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ইস্যুতে অন্য কোনও আইনি চ্যালেঞ্জও উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



