Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লির বহুল আলোচিত আবগারি নীতি সংক্রান্ত মামলায় (Kejriwal Sisodia Clean Chit) বড়সড় ধাক্কা খেল তদন্তকারী সংস্থা। রাজধানীর Rouse Avenue Court-এর বিশেষ আদালত শুক্রবার অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মনীশ সিসোদিয়া-সহ মোট ২৩ জন অভিযুক্তকে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং তাঁর রায়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য তথ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
মামলার চার্জশিটে একাধিক ত্রুটি (Kejriwal Sisodia Clean Chit)
রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, মামলার চার্জশিটে (Kejriwal Sisodia Clean Chit) একাধিক ত্রুটি, অসংগতি ও ফাঁকফোকর রয়েছে। অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ হাজির করা হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, একটি “ষড়যন্ত্রের কাহিনি” নির্মাণের চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তা ছিল মূলত অনুমাননির্ভর এবং প্রমাণভিত্তিক নয়।বিচারকের কথায়, কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই প্রাথমিকভাবে অপরাধের উপাদান প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখাতে হলে যে মানের তথ্যপ্রমাণ প্রয়োজন, তা এই মামলায় অনুপস্থিত।

বিতর্কের সূত্রপাত (Kejriwal Sisodia Clean Chit)
২০২১-২২ সালের দিল্লি আবগারি নীতিকে কেন্দ্র করেই (Kejriwal Sisodia Clean Chit) বিতর্কের সূত্রপাত। সেই সময় দিল্লিতে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি সরকারের প্রণীত নীতিতে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে সিবিআই। অভিযোগ ছিল—নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে লাইসেন্স ফি কমানো হয়েছিল, মুনাফার হার নির্ধারণে পক্ষপাত করা হয়, এর বিনিময়ে ‘কিকব্যাক’ লেনদেন হয়েছে, ফলে দিল্লি সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। বিতর্ক তীব্র আকার নিলে পরে আবগারি নীতি প্রত্যাহার করে সরকার। এরপরই শুরু হয় তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতারির পর্ব।

বিতর্ক (Kejriwal Sisodia Clean Chit)
এই মামলায় প্রথমে গ্রেফতার হন তৎকালীন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া। তাঁকে দীর্ঘ সময় তিহাড় জেলে থাকতে হয়। পরে গ্রেফতার করা হয় মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও। পদে থাকাকালীন একজন মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারি দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। জামিন পেলেও আদালতের নির্দেশে কেজরিওয়াল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েন। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে কেন্দ্রের বক্তব্য ছিল, আইনের নিজস্ব পথে তদন্ত চলছে।
নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি
শুক্রবারের রায়ে আদালত স্পষ্ট জানায়, আবগারি নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় কোনও সামগ্রিক অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা অসৎ উদ্দেশ্যের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। অভিযোগের পক্ষে উপযুক্ত নথি, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য বা আর্থিক লেনদেনের সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়নি। মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের অভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে আদালত। বিচারকের মতে, নীতিগত সিদ্ধান্তকে ফৌজদারি অপরাধে রূপান্তরিত করতে হলে যে শক্ত প্রমাণ প্রয়োজন, তা তদন্তকারী সংস্থা হাজির করতে পারেনি।
বৃহৎ ষড়যন্ত্রের দাবি কেজরিওয়ালের
রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেজরিওয়াল দাবি করেন, গোটা ঘটনাই ছিল তাঁকে ও তাঁর দলকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করার বৃহৎ ষড়যন্ত্র। তাঁর কথায়, দলকে ভাঙার উদ্দেশ্যে শীর্ষ নেতৃত্বকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সিসোদিয়া তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। সিসোদিয়াও বলেন, দীর্ঘ দুই বছর কারাবাসের পর আদালতের এই রায় তাঁদের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।
আরও পড়ুন: Dol Yatra 2026: এই বছর দোলযাত্রা কবে?
আম আদমি পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক স্বস্তি
দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের এই সিদ্ধান্ত আম আদমি পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক স্বস্তি এনে দিল বলেই মত বিশ্লেষকদের। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ফৌজদারি মামলায় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, দিল্লির আবগারি কাণ্ডে বিশেষ আদালতের এই রায় শুধু আইনি ক্ষেত্রেই নয়, রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।


