Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন যতবার বিদেশ সফরে বেরিয়েছেন, ততবারই আলোচনায় এসেছে তাঁর ‘সবুজ বুলেটপ্রুফ ট্রেন’(Kim Jung Un)। বিমানে না গিয়ে, কঠোর নিরাপত্তায় মোড়া এই বিশেষ ট্রেনেই তিনি রাশিয়া, চিন কিংবা ভিয়েতনামে সফর করেছেন। কিমের দাদু কিম ইল সাং এবং বাবা কিম জং ইলের আমল থেকেই এই ট্রেনকে রাষ্ট্রনেতাদের নিরাপদ যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ঐতিহ্য (Kim Jung Un)
কিম পরিবারের বিদেশ সফরে সবুজ ট্রেন ব্যবহার কোনো নতুন বিষয় নয়(Kim Jung Un)। কিম জং উনের বাবা কিম জং ইল বিমানযাত্রায় ভীত ছিলেন। তাই ১৯৯৪ থেকে ২০১১ পর্যন্ত তিনি রাশিয়ায় তিনবার এবং চিনে সাতবার গিয়েছিলেন এই বুলেটপ্রুফ ট্রেনে চেপে। কিম ইল সাংও একইভাবে এই পরিবহণ ব্যবহার করতেন। ফলে কিম জং উনের ক্ষেত্রেও এই ঐতিহ্য অব্যাহত রয়েছে।
বুলেটপ্রুফ ট্রেনের বৈশিষ্ট্য (Kim Jung Un)
সবুজ রঙে মোড়া ও হলুদ দাগ টানা এই ট্রেনের প্রতিটি বগি ইস্পাত দিয়ে ঢাকা এবং পুরোপুরি বুলেটপ্রুফ(Kim Jung Un)। ওজনের কারণে এর গতি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি হয় না। তবে নিরাপত্তার মান একেবারে নিশ্ছিদ্র। ট্রেন চলার সময় রেলপথে আগে থেকে একটি পর্যবেক্ষণ ট্রেন চলে, মাঝের ট্রেনে থাকেন কিম ও তাঁর শীর্ষকর্তারা, আর শেষের ট্রেনে থাকেন প্রতিনিধি দল। এছাড়াও সশস্ত্র যান এবং হেলিকপ্টার সর্বক্ষণ ট্রেনের আশপাশে টহল দেয়।

আরও পড়ুন : Indonesia Protests : ইন্দোনেশিয়ায় ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের টিয়ার গ্যাস, এখনও পর্যন্ত মৃত্যু ৮
ভেতরের বিলাসবহুল জীবনযাপন (Kim Jung Un)
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই ট্রেনের ভেতরে রয়েছে বিনোদন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য সমস্ত ব্যবস্থা। প্রতিটি ট্রেনে থাকে ১০ থেকে ১৫টি বগি। কয়েকটি বগি কিম ও তাঁর পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট, বাকি বগিগুলি ব্যবহার করেন নিরাপত্তারক্ষী, চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা। বিদেশ সফরে পুরো ট্রেনটি হয়ে ওঠে চলমান প্রশাসনিক দফতর।
গুরুত্বপূর্ণ সফরগুলো (Kim Jung Un)
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে কিম জং উন একাধিকবার এই ট্রেনেই বিদেশ সফর করেছেন(Kim Jung Un)।
- রাশিয়া সফরে তিনি এই ট্রেনেই ভ্লাদিভোস্তক পৌঁছেছিলেন।
- ২০১৯ সালে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন একই ট্রেনে।
- সম্প্রতি বেজিঙে সামরিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতেও এই বুলেটপ্রুফ ট্রেনেই তিনি পৌঁছেছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিদেশমন্ত্রী চো-সুন হুই এবং প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষকর্তারা।
আরও পড়ুন : Operation Whitewash : ভারতের রহস্যময় KALI অস্ত্রে কীভাবে ধরাশায়ী হয়েছিল পাকিস্তান?
রহস্য এখনো অমীমাংসিত (Kim Jung Un)
কিম জং উনের বিমানযাত্রা নিয়ে ভয় আছে কি না, তা নিয়ে বহুবার প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর বাবা যেভাবে আকাশপথে ভ্রমণে ভীত ছিলেন, তিনিও কি সেই ভীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন? নাকি নিরাপত্তার খাতিরে ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রেনকেই বেছে নিচ্ছেন? উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা কখনোই দেওয়া হয়নি।
কিমের সবুজ ট্রেনের প্রতীকী গুরুত্ব (Kim Jung Un)
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ট্রেন শুধু কিম পরিবারের ভ্রমণযান নয়, বরং ক্ষমতা ও নিরাপত্তার প্রতীক। এ যেন চলমান এক দুর্গ, যেখানে নিরাপত্তা ও রাজকীয় মর্যাদা পাশাপাশি চলে। কিমের প্রতিটি বিদেশ সফরে এই ট্রেন আন্তর্জাতিক কূটনীতির আলোচনায় নতুন করে স্থান করে নেয়।


