Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: হঠাৎ করেই নেমে এল প্রলয় (Kishtwar Cloudburst)। জম্মু-কাশ্মীরের কিশ্তওয়াড় জেলার চিশোতী গ্রাম বৃহস্পতিবার সকালটা শুরু করেছিল এক শান্ত পরিবেশে, তবে মুহূর্তেই বদলে যায় সেই চিত্র। সকাল ১১টা নাগাদ একটি বিকট শব্দ, যেন কোনও বিস্ফোরণ। তারপরই পাহাড়ি ঢাল বেয়ে তীব্র গতিতে নেমে এল জল, কাদা আর পাথরের প্রবল স্রোত। একেই বলে হড়পা বান। চার ফুটের বেশি উচ্চতার সেই জলোচ্ছ্বাস গ্রাস করে নেয় গোটা গ্রাম এবং সেখানে উপস্থিত শতাধিক পুণ্যার্থীকে।
কয়েক মিনিটেই সব শেষ (Kishtwar Cloudburst)
মচৈল মাতা মন্দির দর্শনে চিশোতী গ্রামে বহু পুণ্যার্থী জড়ো হয়েছিলেন (Kishtwar Cloudburst)। তাঁদের থাকার জন্য তৈরি হয়েছিল অস্থায়ী শিবির। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আচমকা মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে নেমে আসে হড়পা বান। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, “সবকিছু ঘটল মাত্র কয়েক মিনিটে। প্রথমে বিস্ফোরণের মতো একটা আওয়াজ, তারপরই চারদিক থেকে এসে ঘিরে ফেলল জল, পাথর আর কাদার ঢল। কিছু বোঝার আগেই সব শেষ। অনেকেই কোনও আশ্রয় নেওয়ার সুযোগই পেলেন না।”
এখনও ট্রমায় অনেকে (Kishtwar Cloudburst)
একে একে হারিয়ে যেতে থাকে ঘরবাড়ি, তাঁবু, মানুষ (Kishtwar Cloudburst)। অনেকেই কাদার নীচে চাপা পড়ে যান। যাঁরা কোনওমতে বেঁচে গিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই এখনও ট্রমায় কাঁপছেন। এক বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি জানান, “আমার স্ত্রী ও মেয়েকে আমি চোখের সামনে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়তে দেখি। সৌভাগ্যবশত স্থানীয়রা দ্রুত সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসে আমাদের তিনজনকেই উদ্ধার করে।” অন্য একজন জানান, “আমি হড়পা বানে ভেসে যাচ্ছিলাম। একটি গাড়ির ধাক্কায় থেমে যাই এবং সেটাকেই আঁকড়ে ধরি। আমার মা একটি ইলেকট্রিক খুঁটির নীচে আটকে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে তাঁকে কোনওভাবে বাঁচানো হয়।”

চলছে উদ্ধারকার্য
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১০০ জন। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। চলছে জোরকদমে উদ্ধার কাজ। সেনা, এনডিআরএফ ও স্থানীয় প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।


