Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নির্বাচনের আগে রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই ফের উদ্বেগ বাড়াল অস্ত্র পাচারের ঘটনা (Kolkata)। বিহারের গয়া থেকে কলকাতায় আগ্নেয়াস্ত্র ঢোকানোর ছক ভেস্তে দিল লালবাজারের গোয়েন্দারা। দক্ষিণ কলকাতার ব্যস্ত রাসবিহারী কানেক্টরে অটোয় করে অস্ত্র পাচারের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ল এক পাচারকারী। উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি।

ধৃত কে? কোথা থেকে এসেছে? (Kolkata)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির নাম মহম্মদ ইসতেয়াক। তার বাড়ি বিহারের গয়ার গুরুয়া থানা এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরেই বিহার ও ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এলাকা থেকে রাজ্যে আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের অভিযোগ উঠে আসছে। প্রাথমিক তদন্তে ধৃতের গতিবিধি সন্দেহজনক বলে মনে হলেও এত বড় চালান নিয়ে সে শহরে ঢুকবে এমন স্পষ্ট তথ্য আগে ছিল না।
গোপন সূত্রে খবর, শুরু নজরদারি (Kolkata)
কয়েক মাস ধরেই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসছে। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই সতর্ক হচ্ছে কলকাতা পুলিশ। এমন পরিস্থিতিতে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে খবর আসে, ‘চোরাপথে’ বিহার-ঝাড়খণ্ড থেকে শহরে ঢুকছে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র। সেই সূত্র ধরেই তদন্তে নামে গুণ্ডাদমন শাখা। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনের সম্ভাব্য চলাচলের জায়গা হিসেবে চিহ্নিত হয় দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী কানেক্টর। এরপর থেকেই সাদা পোশাকে শুরু হয় নজরদারি ও নাকা চেকিং।
রাসবিহারী কানেক্টরে ধরা পড়ল পাচারকারী (Kolkata)
দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে সাফল্য আসে। রাসবিহারী কানেক্টরে একটি অটো থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই ফাঁস হয়ে যায় পুরো পরিকল্পনা। অটোয় থাকা এক ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হতেই তাকে আটক করেন গোয়েন্দারা। তল্লাশিতে উদ্ধার হয় একটি ব্যাগ। ব্যাগ খুলতেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের।
কী কী উদ্ধার হল? (Kolkata)
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত মহম্মদ ইসতেয়াকের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে, তিনটি সিঙ্গল শটার, দু’টি ৬ ঘড়া রিভলভার, একটি ৭ এমএম পিস্তল, বেশ কয়েক রাউন্ড তাজা গুলি, এতগুলি আগ্নেয়াস্ত্র শহরের বুকে ঢুকতে পারলে বড়সড় অঘটন ঘটতে পারত বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।
কার কাছে যাওয়ার কথা ছিল অস্ত্র? (Kolkata)
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মহম্মদ ইসতেয়াক মূলত ডেলিভারি ম্যানের ভূমিকা পালন করছিল। তার কাজ ছিল নির্দিষ্ট জায়গায় অস্ত্র পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু সেই অস্ত্র কার হাতে যাওয়ার কথা ছিল, কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই চলছে টানা জেরা।
আরও পড়ুন: Mid Day Meal Bihar: মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ ৭০ পড়ুয়া, বিহারের স্কুলে চাঞ্চল্য!
বড় মাথার খোঁজে গোয়েন্দারা
এই ঘটনার পিছনে কোনও প্রভাবশালী চক্র বা বড় মাথা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। ভোটের আগে এমন অস্ত্র পাচারের ঘটনায় রাজনৈতিক বা অপরাধমূলক যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে সতর্কতা সামনেই নির্বাচন। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ কলকাতা পুলিশ। এই ঘটনার পর শহরজুড়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলিতে কড়া তল্লাশি চলছে।



