Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, গত পাঁচ বছরে ১১,৫৩৯টি বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়েছে (Kolkata Municipal Corporation)। তাঁর দাবি, প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে এবং নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, যদি নিয়ন্ত্রণ এতটাই কড়া হয়, তাহলে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে কীভাবে বহুতল বেআইনি ভবন গড়ে উঠছে? নির্মাণ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া ভিত খোঁড়া থেকে ছাদ ঢালা পর্যন্ত বহু ধাপ। সেই প্রতিটি ধাপ কি নজর এড়িয়ে যায়? নাকি কোথাও প্রশাসনিক শিথিলতা বা যোগসাজশ রয়েছে? এখানেই মূল প্রশ্ন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কি যথেষ্ট শক্তিশালী, নাকি প্রশাসন কেবল ভাঙার পরিসংখ্যান তুলে ধরেই দায় সেরে ফেলছে?

আইনের ফাঁকফোকর? (Kolkata Municipal Corporation)
বিরোধীদের আরও গুরুতর অভিযোগ বহু ক্ষেত্রে বেআইনি নির্মাণকে পরে নিয়ম মেনে ‘রেগুলারাইজ়’ করে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। যদি সত্যিই তা হয়, তবে ভাঙার পদক্ষেপ কতটা কার্যকর? আইনের শাসন তখনই প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন শাস্তি নিশ্চিত ও নিরপেক্ষ হয়। যদি কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নির্মাণ রক্ষা পায় আর সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি হয়, তবে প্রশাসনের প্রতি আস্থা কমে যায়।
প্রযুক্তি বনাম বাস্তব অভিজ্ঞতা (Kolkata Municipal Corporation)
বাজেট অধিবেশনে শহরের বর্জ্য অপসারণ নিয়েও তীব্র সমালোচনা হয়। অভিযোগ ওঠে, রাস্তায় দীর্ঘ সময় আবর্জনা পড়ে থাকছে এবং শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বর্জ্য অপসারণ বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় কম জনবলেই বেশি কাজ সম্ভব হচ্ছে। যান্ত্রিক ঝাড়ুদার, কম্প্যাক্টর ট্রাক, ডিজিটাল মনিটরিং সব মিলিয়ে পরিষেবা আধুনিক হয়েছে। তবে নাগরিক অভিজ্ঞতা কি সেই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? প্রযুক্তি প্রয়োগের সাফল্য নির্ভর করে তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির উপর। শুধু যন্ত্র কেনা নয়, তা কার্যকরভাবে চালানোই আসল চ্যালেঞ্জ।

রাজস্ব বৃদ্ধি কি সমাধানের প্রমাণ? (Kolkata Municipal Corporation)
শহরের যানজটের অন্যতম কারণ অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং। গলি থেকে প্রধান সড়ক সব জায়গায় গাড়ির সারি। প্রশাসনের দাবি, পার্কিং থেকে রাজস্ব আদায় বেড়েছে, যা নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ। কিন্তু রাজস্ব বৃদ্ধি সবসময় নিয়ন্ত্রণের সূচক নয়। কখনও কখনও তা অনিয়মকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ইঙ্গিতও হতে পারে। শহুরে পরিকল্পনায় পার্কিং ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নির্দিষ্ট পার্কিং জোন, কঠোর নজরদারি ও জরিমানার প্রয়োগ এসব ছাড়া শুধু ফি আদায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না।
জীবিকা বনাম নাগরিক অধিকার (Kolkata Municipal Corporation)
কলকাতার ফুটপাথ দখলদারি নতুন সমস্যা নয়। একদিকে হকারদের জীবিকার প্রশ্ন, অন্যদিকে পথচারীর চলাচলের অধিকার। পুরসভার সমীক্ষায় ৫৪ হাজারের বেশি হকার চিহ্নিত হয়েছে এবং তাঁদের ভেন্ডিং সার্টিফিকেট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি সার্টিফিকেট দিলে আর অবৈধতা থাকবে না। কিন্তু বাস্তবতা আরও জটিল। শুধু লাইসেন্স প্রদান নয়, প্রয়োজন, নির্দিষ্ট ভেন্ডিং জোন, পথচারীর জন্য ন্যূনতম চলাচল-স্থান নিশ্চিতকরণ, নিয়ম লঙ্ঘনে কঠোর ব্যবস্থা, অন্যথায় সার্টিফিকেটও কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন: Uttar Pradesh: চলন্ত গাড়ির উপর হাইমাস্ট পোল! প্রতাপগড়ে চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা!
মূল সঙ্কটের কেন্দ্রবিন্দু
সমস্ত বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্ন। বেআইনি নির্মাণ, বর্জ্য সমস্যা, পার্কিং বা ফুটপাথ সব ক্ষেত্রেই নাগরিকদের প্রত্যাশা একটাই: স্বচ্ছতা ও সমান প্রয়োগ। মেয়রের বক্তব্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু একটি সক্রিয় নগর প্রশাসন কেবল অভিযোগের অপেক্ষায় থাকে না; নিজে থেকেই নজরদারি ও মূল্যায়ন চালায়।



