Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জার্সি উপহার দিলেন শচীন। মঞ্চে তিন কিংবদন্তিকে দেখে আবেগে ভাসলেন দর্শকরা (Lionel Messi)।
একমঞ্চে তিন কিংবদন্তি (Lionel Messi)
একদিকে মেসির কলকাতা সফর ঘিরে বিতর্কের ঝড় আর অন্যদিকে ভারতীয় ফুটবলের কঠিন অবস্থা এই সবের মধ্যেই মেসির ভারত সফর কিছুটা সতেজ হাওয়ার মতো। তবে ভারতীয় ফুটবলে মেসি সফর কতটা সঞ্জীবনী দান করতে পারবে সেটা সময়ই বলবে তবে মেসি আবেগে এখন গোটা দেশ ভাসছে। লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ, রড্রিগো ডি-পল, শচীন তেন্ডুলকার, সুনীল ছেত্রী একই মঞ্চে (Lionel Messi)। দর্শকদের জন্য এর থেকে বড় উপহার আর কী হতে পারে নতুন বছরের আগে?
২০১১ বিশ্বকাপের সেই স্মরণীয় রাতের কথা আজও ভারতের সমর্থকদের মনে উজ্জ্বল। সেই রাতেই ধোনির নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। আর এই মাঠেই সতীর্থদের কাঁধে চেপে মাঠ প্রদক্ষিণ করেছিলেন ক্রিকেটের ‘ভগবান’ শচীন। সেদিনের সেই রাতে চারদিকে শচীনের নাম মুখরিত ছিল স্টেডিয়াম আর এবার সেই স্টেডিয়ামই শুনলো মেসি-মেসি ধ্বনি। সেদিনের সেই সোনালী ফ্রেম যেন আরেকবার উজ্জ্বলিত হলো নতুন করে।
আকর্ষণের কেন্দ্রে মেসি থাকলেও নিজের শহর ক্রিকেটের কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধা জানাতে কোনওরকম খামতি রাখেনি। ফুটবল মক্কায় মেসিকে নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল কিন্তু মুম্বই ও হায়দরাবাদ সেই অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খল ভাবে অনুষ্ঠান করে দেখিয়ে দিলো। সোমবার নয়াদিল্লিতে মেসি শেষ অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে (Lionel Messi)।

রবিবার ক্রিকেট ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন মেসি–সুয়ারেজ–ডি পলরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলিউড তারকা করিনা কাপুর তাঁর দুই ছেলে তৈমুর ও জে আলি। উপস্থিত ছিলেন সস্ত্রীক মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, টাইগার শ্রফ, অজয় দেবগণ। মাঠের একটা পাশে বড় তাঁবু তৈরি করা হয়েছিল। ভিভিআইপি-রা মাঠে এসে আগে সেখানে বসলেন। মাঠের মাঝে তৈরি করা হয়েছিল বড় স্টেজ। এখানে কোন হুড়ুহুড়ি ছিল না, ছবি তোলার ভিড় ছিল না। শচীন মেসির হাতে তুলে দেন ভারতের ১০ নম্বর জার্সি ও মেসি শচীনের হাতে তুলে দেন আর্জেন্তিনার ১০ নম্বর জার্সি।

শচীন সন্ধে পৌনে ছ’টায় স্টেডিয়ামে পা রাখতেই গ্যালারি জুড়ে চিক্কার ওঠে স–চি–ন, স–চি–ন গর্জন। কয়েক মিনিট পরে মেসি আসতেই সেই স্লোগান বদলে গেল মে–সি, মে–সি। কথা বলতে গিয়ে আবেগে ভাসলেন শচীন। তিঁনি বললেন ‘এই স্টেডিয়াম আমার বহু স্বপ্ন সফল করেছে। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ জেতা সে রকমই এক সোনালি মুহূর্ত। আজ মেসিদের উপস্থিতিতে সে রকমই এক সোনালি দিন।’
আরও পড়ুন: Military: আরও শক্তিশালী হচ্ছে ভারতীয় সেনা: আমেরিকা থেকে শীঘ্রই মিলবে ৩ অ্যাপাচে কপ্টার
এর পরে ভরা গ্যালারির ওয়াংখেড়েতে পুরো একঘণ্টা কাটান মেসি-সুয়ারেজরা। শচীন ছাড়াও এখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি সুনীল ছেত্রী। ফুটবলে সুনীল ছেত্রী বিশ্বে দেশের ফুটবলের একমাত্র তারকা যিনি গোল করার নিরিখে রোনাল্ডো-মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছিলেন। রেকর্ড বুকেও মেসিদের পাশে সুনীলের নাম লেখা থাকবে।
মেসি ওয়াংখেড়েতে পা রাখার আগে সেভেন আ সাইড ফুটবল ম্যাচ চলছিল। সুনীল সেখানে হেডে দুর্দান্ত এক গোল করেন। তখনও মেসির মাঠে আবির্ভাব হয়নি। খেলা চলাকালীনই থ্রি মাস্কেটিয়ার্স মেসি, সুয়ারেজ ও দি পলের মাঠে প্রবেশ। দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন তিন মহাতারকা। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ফুটবলারদের তালিকায় সবার শেষে দাঁড়িয়ে সুনীল। মেসি এগিয়ে গেলেন সুনীলের দিকে, করমর্দন করলেন দুই মহারথী। গ্যালারি তখন চিৎকারে ফেটে পড়ছে। দেশের ফুটবলের জন্য এ যেন এক গর্বের মুহূর্ত। তিন কিংবদন্তির মহামিলনের সাক্ষী থাকলো ওয়াংখেড়ে (Lionel Messi)।


