Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: লিপস্টিকের ইতিহাস প্রাচীন (Lipstick)। মিশরের রানী ক্লিওপেট্রা থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের ফ্যাশন দুনিয়া— ঠোঁট রাঙানোর এই প্রসাধনী যুগে যুগে নারীর সৌন্দর্যের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আজকের দিনে প্রায় প্রত্যেক নারীর প্রসাধনের তালিকায় লিপস্টিক থাকবেই। কিন্তু আপনি কি জানেন, রঙিন এই প্রসাধনী অনেক সময় নীরব ঘাতকের ভূমিকা নিতে পারে?
লিপস্টিক ও রাসায়নিক উপাদানের ফাঁদ (Lipstick)
বর্তমানে বাজারে পাওয়া অধিকাংশ লিপস্টিকে কেবল প্রাকৃতিক রঞ্জক নয়, বরং নানা ধরনের সিন্থেটিক কেমিক্যালও মেশানো হয়। গবেষণা বলছে, বহু লিপস্টিকে সীসা, ক্রোমিয়াম, আর্সেনিক, অ্যালুমিনিয়াম এবং ক্যাডমিয়াম এর মতো ভারী ধাতু থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর হতে পারে।
- সীসা: উচ্চ রক্তচাপ, স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা এবং কিডনি বিকল হতে পারে।
- ক্রোমিয়াম ও ক্যাডমিয়াম: ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
- অ্যালুমিনিয়াম: স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে।
হরমোনের উপর মারাত্মক প্রভাব (Lipstick)
অর্থোপেডিক সার্জন ডাঃ মনন ভোরা তার এক ভিডিও বার্তায় সতর্ক করেছেন যে (Lipstick), লিপস্টিকের রাসায়নিক উপাদান অনেক সময় হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। বিশেষত, লিপস্টিকের বিপিএ বা বিসফেনল-এ নামক পদার্থটি ইস্ট্রোজেন হরমোনের মতো কাজ করে। এর ফলে—
- ঋতুচক্রে অনিয়ম,
- হরমোন বিভ্রাট,
- বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।
বিপিএ-র সঙ্গে যুক্ত আরেকটি ক্ষতিকর উপাদান হল মিথাইলপ্যারাবেন এবং প্রোপাইলপ্যারাবেন। এগুলি কসমেটিক পণ্যে প্রিজারভেটিভ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ত্বক বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো লিপস্টিক কেনার সময় অবশ্যই লেবেলে খুঁজে দেখতে হবে:
- “Paraben Free”
- “BPA Free”
এই দুই ট্যাগ থাকলে তবেই সেই লিপস্টিক ব্যবহার করা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
পশু-উৎপন্ন উপাদানের ঝুঁকি (Lipstick)
অনেক লিপস্টিকে চমকপ্রদ উজ্জ্বলতা আনতে ব্যবহৃত হয়—
- হাঙরের লিভার অয়েল
- মাছের আঁশের গুয়ানিন
প্রথমে এগুলি নিরীহ মনে হলেও, আসলে ঠোঁটের কোমল ত্বকের জন্য মোটেও উপযোগী নয়। এগুলি অ্যালার্জি, প্রদাহ এবং শুষ্কতার সমস্যা তৈরি করতে পারে।
কৃত্রিম রং ও স্বাস্থ্যের বিপদ
সবুজ, লাল, গোলাপী বা হলুদ— এই সব রঙের কৃত্রিম রঞ্জক অনেক সময় ঠোঁটে ব্যবহার করা হয়। এগুলির মধ্যে অনেকেই কার্সিনোজেনিক (ক্যানসার সৃষ্টিকারী) বলে বিবেচিত।
গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত কৃত্রিম রঙের ব্যবহারে—
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়,
- শিশুদের মধ্যে হাইপারঅ্যাকটিভিটি (অতিরিক্ত চঞ্চলতা) তৈরি হয়,
- দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনির উপর চাপ পড়ে।
- শরীরে প্রবেশের নীরব পথ
অনেকে মনে করেন লিপস্টিক কেবল ঠোঁটের উপরই বসে থাকে। কিন্তু বাস্তব হল— প্রতিদিন খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর একটি বড় অংশ শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে। হিসেব বলছে, একজন নারী তার জীবদ্দশায় প্রায় ২–৩ কেজি লিপস্টিক শরীরে শোষণ করে ফেলতে পারেন।
বিকল্প ও সুরক্ষিত সমাধান
- ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে বাঁচতে প্রাকৃতিক উপাদান-সমৃদ্ধ লিপস্টিক বেছে নেওয়াই শ্রেয়। যেমন—
- ফল, গাছপালা ও শাকসবজি থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক রঙ।
- নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা বাদামের তেলযুক্ত লিপ প্রোডাক্ট।
- মৌমাছির মোম বা শিয়া বাটার সমৃদ্ধ লিপ বাম।
আরও পড়ুন: Soham-Idhika: একসাথে মায়ের আশ্রয়ে সোহম-ইধিকা, নতুন সাফল্যের ইঙ্গিত!
এছাড়া পরিবেশ-বান্ধব, “Mineral Oil Free” এবং “Petroleum Jelly Free” ট্যাগযুক্ত প্রসাধনী বেছে নিন। কারণ খনিজ তেল ও পেট্রোলিয়াম জেলি ঠোঁটকে আর্দ্র না রেখে উল্টে আরও শুষ্ক করে তোলে। লিপস্টিক শুধু ফ্যাশন নয়, বরং প্রতিদিনের অভ্যাস। কিন্তু সেই অভ্যাস যদি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়, তবে তা থেকে সচেতন হওয়া জরুরি। তাই এখন থেকেই লিপস্টিক কেনার সময় চোখ রাখুন লেবেলে— Paraben Free, BPA Free, Lead Free ট্যাগে। প্রাকৃতিক উপাদান-ভিত্তিক পণ্যই হতে পারে আপনার সৌন্দর্যের সঙ্গী এবং সুস্থতার রক্ষাকবচ।


