Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: শিল্পায়নের পথে আরও এক ধাপ (Logistic Hub) এগোল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্য সরকার এবার লজিস্টিক খাতকে সরাসরি ‘শিল্প’ হিসাবে স্বীকৃতি দিল, যা আগামী দিনে বিপুল বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের দিক খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে রাজ্যে দ্রুত লজিস্টিক হাব, মাল্টিমোডাল পার্ক এবং ওয়্যারহাউস গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত হল।
শিল্পায়নের গতিকে আরও তরান্বিত করবে (Logistic Hub)
নয়া নীতির ফলে লগ্নিকারীরা শিল্পের জন্য নির্ধারিত (Logistic Hub) ছাড়, বিদ্যুৎ সুবিধা ও সহজ ঋণ সুবিধার আওতায় আসবেন। পাশাপাশি রাজ্যের জমি ব্যাঙ্ক থেকেও এই খাতের জন্য জমি মিলবে। তাজপুর, ডানকুনি এবং রঘুনাথপুরকে ঘিরে যে আর্থিক করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা এই শিল্পায়নের গতিকে আরও তরান্বিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক পদক্ষেপ (Logistic Hub)
এই উদ্যোগকে “বাংলার ভবিষ্যতের গেম-চেঞ্জার” (Logistic Hub) বলে অভিহিত করেছেন সিআইআই ওয়েস্ট বেঙ্গলের চেয়ারম্যান দেবাশিস দত্ত। তাঁর মতে, এটি শুধু নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং রাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত শক্ত করার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। রাজ্য সরকারও মনে করছে, লজিস্টিক হাব গুলিকে ঘিরে যেমন সরাসরি কাজের সুযোগ তৈরি হবে, তেমনি নানা পরোক্ষ ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান বাড়বে।
জমির রেকর্ড সংশোধন
শুধু লজিস্টিক নয়, শিল্প পরিকাঠামো তৈরির জন্য জমি সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে এদিনের মন্ত্রিসভা বৈঠকে। পশ্চিম বর্ধমানের হিরাপুর এলাকায় প্রায় ১৯৩ একর জমি পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমের অধীনে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বারুইপুর টাউনশিপ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জমি মামলার নিষ্পত্তির বিষয়েও আলোচনা হয়। নোনাডাঙা, বারাখোলা ও অন্যান্য এলাকায় জমির রেকর্ড সংশোধন ও লিজ নবায়নের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।

আরও পড়ুন: Zubeen Garg: স্কুবা ডাইভিংয়ে মৃত্যু ফাঁদ? জুবিনের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সঙ্গীত মহল
এছাড়াও, রাজ্যে নতুন পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের প্রসঙ্গও এসেছে আলোচনায়। নিউ টাউন এনকেডিএ-তে ১৫টি নতুন পদ তৈরির ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। কৃষি আয়কর দফতরের নিয়োগ নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি রাজ্যে ‘ইনফ্লুয়েন্সার এনগেজমেন্ট’ নীতি চালুর প্রস্তাবও মন্ত্রিসভায় পাশ হয়েছে।
মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক
শারদোৎসবের আগে এটাই ছিল রাজ্য মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক। পুজোর পরেই রাজ্যে বসছে ‘বঙ্গ গ্লোবাল বিজনেস সামিট’। তার আগেই এই পদক্ষেপ শিল্পবান্ধব ভাবনার প্রতিফলন বলে মনে করছে বণিক মহল। সরকারের আশা, এই নীতির বাস্তবায়ন বাংলাকে পূর্ব ভারতের লজিস্টিক হাবে পরিণত করবে, যা রাজ্যের অর্থনীতিকে দেবে নতুন গতি।


