Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক (LPG Tanker) উত্তেজনার আবহে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছিল, ঠিক সেই সময় স্বস্তির খবর এনে দিল একাধিক তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের নিরাপদ আগমন। হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে পৌঁছেছে ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘নন্দা দেবী’, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৪৫,০০০ মেট্রিক টন এলপিজি বোঝাই করে ‘নন্দা দেবী’ মঙ্গলবার গুজরাতের ভাদিনার বন্দরে নোঙর করে। প্রাথমিকভাবে জাহাজটির গন্তব্য ছিল কাণ্ডলা বন্দর, তবে নিরাপত্তা ও লজিস্টিক কারণে শেষ মুহূর্তে গন্তব্য পরিবর্তন করে ভাদিনারে আনা হয়।
সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম (LPG Tanker)
এর আগে ‘শিবালিক’ নামে আরেকটি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার (LPG Tanker) সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছেছিল। সেই জাহাজটিও প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি সরবরাহ করে দেশের গ্যাস ভাণ্ডারকে কিছুটা শক্তিশালী করে। শুধু এলপিজি নয়, অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক খবর মিলেছে। ‘নন্দা দেবী’-র পরপরই ‘জাগ লাডকি’ নামে একটি তেলবাহী জাহাজ বুধবার মুন্দ্রা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। প্রায় ৮০,৮০০ মেট্রিক টন মুরবান ক্রুড বহনকারী এই জাহাজটির আগমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে (LPG Tanker)
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ১৪ মার্চ সংযুক্ত (LPG Tanker) আরব আমিরশাহির ফুজাইরাহ বন্দরের সিঙ্গল পয়েন্ট মুরিং-এ তেল লোডিং চলাকালীন হামলার ঘটনা ঘটে। সেই সময় ‘জাগ লাডকি’ জাহাজে তেল তোলা হচ্ছিল। পরিস্থিতি সত্ত্বেও জাহাজটি কোনও ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি এবং পরবর্তীতে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ নিরাপদে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজে থাকা সমস্ত নাবিক সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছেন। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম অংশে অন্তত ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ অবস্থান করছে, যেখানে মোট ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও যথেষ্ট নজরদারি চালানো হচ্ছে।

আমদানির উপর নির্ভরশীল
প্রসঙ্গত, ভারতের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশই আমদানির উপর নির্ভরশীল। দেশের প্রায় ৮৮ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, ৫০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস এবং প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি, বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, এই সরবরাহ ব্যবস্থার মূল ভরকেন্দ্র। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলা এবং ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের ফলে গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে। এই পথ দিয়ে বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও।

আরও পড়ুন: Debangshu Bhattacharya: দেবাংশুর মুখে ‘নতুন চুঁচুড়া’, ওদিকে রাজনৈতিক সন্ন্যাস প্রাক্তন বিধায়কের!
ভারত ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কিছুটা বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবুও এলপিজি সরবরাহে চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে শিল্পক্ষেত্র এবং হোটেল-রেস্তরাঁর মতো বাণিজ্যিক ব্যবহারে। এই প্রেক্ষাপটে ‘নন্দা দেবী’, ‘শিবালিক’ এবং ‘জাগ লাডকি’-র মতো জাহাজগুলির নিরাপদে ভারতে পৌঁছনো নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সরবরাহ আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির স্থিতিশীল হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।


