Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জবলপুর শহরের সিহোরা তহশিলে বৃহস্পতিবার রাতে একটি দুর্গামন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে (Madhya Pradesh)। সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার আরতি চলাকালীন সময়েই কাছাকাছি একটি মসজিদে নামাজ হচ্ছিল। সেই সময় আচমকাই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা, পরে তা পাথর ছোঁড়াছুঁড়িতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরেই সংঘাতের সূত্রপাত বলে জানা গেলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শিবাজী জয়ন্তীর মিছিলে অশান্তি (Madhya Pradesh)
বাঘলকোট শহরে শিবাজী জয়ন্তী উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। মিছিলটি স্থানীয় একটি মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ উত্তেজনা ছড়ায়। হিন্দু গোষ্ঠীর অভিযোগ, মসজিদের ভিতর থেকে মিছিল লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়। একটি পাথর জেলা পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ গোয়েলের মাথায় লাগে এবং তিনি আহত হন। অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশের দাবি, মিছিলের ডিজে-তে আপত্তিকর স্লোগান বাজানো হচ্ছিল, যা উস্কানিমূলক বলে মনে হয়েছে। ঘটনার জেরে বাঘলকোট শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। পাথর নিক্ষেপের অভিযোগে অন্তত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কঠোর নজরদারি চলছে এবং সামাজিক মাধ্যমে নজর রাখা হচ্ছে।
হায়দরাবাদে রমজানের নামাজ ঘিরে উত্তেজনা (Madhya Pradesh)
হায়দরাবাদ শহরেও রমজানের প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়। যদিও এই ঘটনা তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল এবং পুলিশি তৎপরতায় দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রশাসনের বক্তব্য, কোনও বড় ধরনের সংঘর্ষ বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে সংবেদনশীল সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক তৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ (Madhya Pradesh)
তিনটি ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ বিষয় স্পষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা শোভাযাত্রা ঘিরে পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং উস্কানিমূলক আচরণ দ্রুত পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলছে। তবে একইসঙ্গে এটিও উল্লেখযোগ্য যে, পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করায় কোনও প্রাণহানি ঘটেনি। প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল: গুজব রটনা রোধ করা, উস্কানিমূলক বক্তব্য বা স্লোগান নিয়ন্ত্রণ করা, সংবেদনশীল এলাকা চিহ্নিত করে আগাম সতর্কতা নেওয়া, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ বজায় রাখা
আরও পড়ুন: Bankura: ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল শহর, সাংবাদিকের সাহসে প্রাণে বাঁচলেন বাড়ির মালিক
সামাজিক সম্প্রীতির প্রয়োজনীয়তা
ভারত একটি বহুধর্মী ও বহুভাষিক দেশ। বিভিন্ন উৎসব, ধর্মীয় আচার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান একসঙ্গে পালিত হয়। কিন্তু সামান্য উস্কানি বা ভুল বোঝাবুঝি বড় অশান্তির রূপ নিতে পারে এই সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি তারই উদাহরণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনিক কড়াকড়ির পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি, আন্তঃসম্প্রদায় সংলাপ এবং রাজনৈতিক সংযম অত্যন্ত জরুরি। কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়; নাগরিক সমাজেরও ভূমিকা অপরিহার্য।



