Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রদেশের মাইহার জেলায় সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক বিক্ষোভ ঘিরে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে (Madhya Pradesh Protest)। বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়-এর কুশপুতুল দাহ করতে গিয়ে এক পুলিশকর্মীর গায়ে আগুন লেগে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক প্রতিবাদের ধরন ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে। নিচে উপশিরোনামসহ বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেওয়া হল।

বিধানসভা থেকে রাস্তায় (Madhya Pradesh Protest)
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার, যখন মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় নগরোন্নয়ন ও আবাস মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে কংগ্রেস বিধায়ক উমঙ্গ সিংহার-এর বচসা বাধে। অভিযোগ, বিতর্কের এক পর্যায়ে উমঙ্গ সিংহারকে ‘সীমা পার না করার’ হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী। এই মন্তব্যকে ঘিরে কংগ্রেস শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পরদিন, অর্থাৎ শুক্রবার সকালে মাইহার জেলা কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং কুশপুতুল দাহের আয়োজন করা হয়। রাজনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই কর্মসূচি নেওয়া হলেও, তার পরিণতি হয়ে ওঠে ভয়াবহ।
কুশপুতুল দাহ ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা (Madhya Pradesh Protest)
শুক্রবার সকালে জনবহুল রাস্তায় মন্ত্রীর কুশপুতুলে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিক বিক্রম পাঠক। তিনি বিক্ষোভকারীদের থামানোর চেষ্টা করলে আচমকাই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে তাঁর পোশাকে আগুন লেগে যায়। চোখের নিমেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিক্রম পাঠকের কোমর, পিঠ, উরু ও হাতের কিছু অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। সহকর্মী পুলিশকর্মীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে মাইহার সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন এবং শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। প্রয়োজনে তাঁকে জেলা হাসপাতাল বা জব্বলপুরে স্থানান্তরিত করা হতে পারে।

রাজনৈতিক উত্তাপ (Madhya Pradesh Protest)
ঘটনার সময়েও বিক্ষোভকারীদের একাংশ স্লোগান দিতে থাকেন বলে অভিযোগ। এই আচরণ নিয়ে সমাজের বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক প্রতিবাদ কি এভাবেই হওয়া উচিত? জনবহুল এলাকায় দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে কুশপুতুল দাহ কতটা নিরাপদ? গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিবাদের অধিকার স্বীকৃত। কিন্তু সেই প্রতিবাদ যদি জননিরাপত্তাকে বিপন্ন করে, তবে তা গণতন্ত্রের চেতনাকেই আঘাত করে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সদস্য কর্তব্য পালন করতে গিয়ে গুরুতর আহত হলে বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: Mani Shankar: জন অরণ্যে বিলীন স্যাটা বোস এর স্রষ্টা, প্রয়াত সাহিত্যিক শংকর
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও তদন্ত
এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সুপার অবধেশ প্রতাপ সিং কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে জনবহুল রাস্তায় পেট্রোলের মতো দাহ্য পদার্থ ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এর ফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা এই ঘটনা প্রমাণ করেছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।



