Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ১৯ বছর পর ফের কাছাকাছি (Maharashtra Politics) আসতে চলেছেন ঠাকরে পরিবারের দুই সদস্য—উদ্ধব ঠাকরে ও রাজ ঠাকরে। দুই ভাইয়ের এই সম্ভাব্য মেলবন্ধন মরাঠাভূমে জোর গুঞ্জনের সৃষ্টি করেছে। কখনও ঘনিষ্ঠ, কখনও প্রতিদ্বন্দ্বী—এই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যদি আবার একসাথে আসেন, তবে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে, তা বলাই বাহুল্য।
অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের জের (Maharashtra Politics)
২০০৫ সালে ঠাকরে পরিবারের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের জেরে শিবসেনা (Maharashtra Politics) ছেড়ে বেরিয়ে আসেন রাজ। এক বছর পর গঠন করেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)। অন্যদিকে, শিবসেনার হাল ধরেন উদ্ধব। দীর্ঘ দুই দশকের এই রাজনৈতিক দূরত্বে উভয়েই আলাদা পথে হাঁটলেও, সম্প্রতি ফের কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন দু’জনেই।
ঐক্যের সম্ভাবনা আরও জোরদার (Maharashtra Politics)
বৃহন্মুম্বই পুরসভা (BMC) নির্বাচন ঘিরে এই ঐক্যের সম্ভাবনা আরও (Maharashtra Politics) জোরদার হয়েছে। অনেকের মতে, বিজেপিকে চাপে রাখতে এবং মরাঠি ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করতেই দুই ভাই একজোট হওয়ার চেষ্টা করছেন। যদিও বিজেপি এই জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব খাটো করেই দেখছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস স্পষ্ট বলেছেন, “ঠাকরে পরিবারের ঐক্যে বিজেপি খুশি হবে। কিন্তু এই ঐক্য আসন্ন বিএমসি নির্বাচনে এনডিএ-র অবস্থানকে দুর্বল করতে পারবে না।”
দুই ভাইয়ের এক হওয়া শুধুই নির্বাচনী কৌশল?
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, দুই ভাইয়ের এক হওয়া শুধুই নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং মরাঠি আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার বৃহত্তর প্রয়াস। এই যুক্তিই সম্প্রতি সামনে এনেছেন রাজ ঠাকরে। তাঁর কথায়, “ব্যক্তিগত মতবিরোধ গৌণ, বৃহত্তর স্বার্থটাই আসল। মরাঠা পরিচয় ও সংস্কৃতির লড়াইয়ে আমাদের একসঙ্গে থাকা উচিত।” রাজের এই বার্তায় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন উদ্ধব ঠাকরেও। তিনি জানান, “মহারাষ্ট্রের স্বার্থে সব ধরনের বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।”
আরও পড়ুন: Brigade 2025: ব্রিগেড সমাবেশ ঘিরে উদ্দীপনা, কংগ্রেস নেতার শুভেচ্ছা, উত্তাল রাজনৈতিক রবিবার!
ঐক্য কতটা বাস্তবায়িত হবে?
তবে এই ঐক্য কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। বিশেষ করে শিবসেনা ভেঙে বেরিয়ে আসা একনাথ শিন্দে শিবিরের তরফে এই বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ পেয়েছে। একনাথ শিন্দে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “সরকারের কাজ নিয়ে আলোচনা করুন, কে কার সঙ্গে মিলছে সেটা মুখ্য নয়।”

২০০৫ সালের বিচ্ছেদের পর ২০২২-এ ফের শিবসেনা বিভক্ত হয়, যখন একনাথ শিন্দে বিদ্রোহ করে শিবসেনার অধিকাংশ বিধায়ক এবং সাংসদদের সঙ্গে নিয়ে দল ভাঙিয়ে দেন। বর্তমানে শিবসেনার প্রতীক ও নামের অধিকাংশই শিন্দের দখলে। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধব-রাজের একসঙ্গে আসা, মরাঠি রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।


