Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সনাতন ধর্মে মহাশিবরাত্রি একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তিথি (Mahashivratri 2026)। দেবাদিদেব মহাদেব শিবের আরাধনায় নিবেদিত এই রাত্রি শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের জীবনকে শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক এই তিন স্তরেই পরিশুদ্ধ করার এক মহামূল্যবান সুযোগ। পুরাণ মতে, এই পবিত্র তিথিতেই দেবী পার্বতীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মহাদেব। আবার অনেক শাস্ত্রে বলা হয়, এই দিনেই শিব তাণ্ডব রূপ ধারণ করে সমগ্র বিশ্বকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন।২০২৬ সালে মহাশিবরাত্রির ব্রত পালন করতে চলেছেন লক্ষ লক্ষ ভক্ত। এই ব্রতের মাহাত্ম্য, নিয়ম ও উপকারিতা জানলে এর অন্তর্নিহিত দর্শন আরও স্পষ্ট হয়।

মহাশিবরাত্রির ব্রত ও তার ধর্মীয় তাৎপর্য (Mahashivratri 2026)
মহাশিবরাত্রিতে উপবাস রেখে সারা রাত জেগে প্রহরে প্রহরে শিবপুজো করার রীতি প্রচলিত। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে শিবলিঙ্গে জল, দুধ, বেলপাতা অর্পণ করলে মহাদেব অতি প্রসন্ন হন। ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ ও ধ্যানের মাধ্যমে ভক্তরা নিজেদের অহংকার, কামনা-বাসনা ত্যাগ করে শিবতত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন। এই ব্রত আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক। রাত্রিজাগরণ মানে অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোয় উত্তরণের সাধনা।
শারীরিক সুস্থতায় মহাশিবরাত্রির ব্রতের ভূমিকা (Mahashivratri 2026)
মহাশিবরাত্রির ব্রত শরীরকে ভেতর থেকে শুদ্ধ করতে সাহায্য করে। নির্জলা উপবাস সম্ভব না হলে ফলাহার করেও এই ব্রত পালন করা যায়। উপবাসের ফলে পাচনতন্ত্র বিশ্রাম পায়, লিভার ও কিডনির উপর চাপ কমে এবং শরীর প্রাকৃতিকভাবে ডিটক্সিফাই হয়। এই ব্রত পালনের পর অনেকেই শরীরে হালকা ভাব ও নতুন এনার্জি অনুভব করেন। নিয়মিত ব্রত পালন করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে বলেও বিশ্বাস করা হয়। আধুনিক দৃষ্টিতেও উপবাস শরীরের মেটাবলিজমকে সাময়িকভাবে রিসেট করতে সাহায্য করে।

মানসিক শান্তি ও আত্মসংযোগ (Mahashivratri 2026)
মহাশিবরাত্রির অন্যতম বড় উপকার মানসিক প্রশান্তি। উপবাস ও সংযমের ফলে মন শান্ত হয়, চিন্তাভাবনা পরিষ্কার হয়। এই দিনে ধ্যান ও মন্ত্রোচ্চারণ করলে মনঃসংযোগ ক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। চাপ, উদ্বেগ, হতাশা ও নেতিবাচক চিন্তা ধীরে ধীরে কমে আসে। জীবনের জটিল পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয়। শিব ধ্যান মানে নিজের অন্তর্জগতে ডুব দেওয়া যেখানে নীরবতার মধ্যেই প্রকৃত শক্তির সন্ধান পাওয়া যায়।
পাপক্ষয় ও আত্মিক উত্তরণ (Mahashivratri 2026)
শাস্ত্রমতে, মহাশিবরাত্রির ব্রত পাপ থেকে মুক্তির এক সহজ পথ। নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে এই ব্রত পালন করলে পূর্বজন্ম ও বর্তমান জীবনের কর্মফল ক্ষয় হয় বলে বিশ্বাস। লোভ, রাগ, ঈর্ষা, কামনা ও অহংকারের মতো রিপুগুলি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে। সারা রাত জেগে মহাদেবের আরাধনা করলে কুণ্ডলিনী শক্তি জাগ্রত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়, যা আত্মিক উন্নতির এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
আরও পড়ুন: Mid Day Meal Bihar: মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ ৭০ পড়ুয়া, বিহারের স্কুলে চাঞ্চল্য!
বৃহস্পতি ও শনির শুভ প্রভাব
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, মহাশিবরাত্রির ব্রত পালন করলে বৃহস্পতি ও শনির শুভ প্রভাব লাভ করা যায়। দাম্পত্য জীবনে সুখ ও স্থিতি আসে, সন্তান লাভের যোগ তৈরি হয়, শিক্ষায় সাফল্য ও কর্মজীবনে উন্নতির পথ প্রশস্ত হয়। সম্পদ, সম্মান ও সামাজিক প্রতিপত্তি বৃদ্ধির সঙ্গেও এই ব্রতের যোগ রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন অনেকেই। বহু ভক্তই জানিয়েছেন, মহাশিবরাত্রির ব্রত পালনের পর তাঁদের জীবনে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।



