Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজনীতির ময়দানে মতপার্থক্য নতুন কিছু নয়। কখনও তা সীমিত থাকে বক্তব্যের ভিন্নতায়, আবার কখনও ব্যক্তিগত আক্রমণ পর্যন্ত গড়িয়ে যায় (Mahua Moitra–Kalyan Banerjee)। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই হেভিওয়েট সাংসদ শ্রীরামপুরের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কৃষ্ণনগরের মহুয়া মৈত্র তেমনই এক সময় একে অপরের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিলেন। সংসদের অন্দরে তাঁদের প্রকাশ্য বিরোধিতা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন তুলেছিল। সেই বিরোধ শুধু বক্তব্যে থেমে থাকেনি, বরং তা এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় সংসদীয় দলের চিফ হুইপের পদ ছাড়তে বাধ্য হন।

সংসদের অন্দরের দ্বন্দ্ব (Mahua Moitra-Kalyan Banerjee)
সংসদ অধিবেশনের মাঝেই মহুয়া ও কল্যাণের মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। পরিস্থিতি এমন জটিল আকার নেয় যে তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজে হস্তক্ষেপ করতে হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখতে উদ্যোগী হন তিনি। যদিও সেই সময় দ্বন্দ্ব মিটলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের তিক্ততা কাটেনি বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল।
ব্যক্তিগত আক্রমণ (Mahua Moitra-Kalyan Banerjee)
এই দ্বন্দ্বের সময় একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় মন্তব্য করতেও পিছপা হননি দুই সাংসদ। মহুয়া মৈত্র কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘নারীবিদ্বেষী’ এবং ‘হতাশগ্রস্ত’ বলে আক্রমণ করেছিলেন। অন্যদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে শোনা গিয়েছিল মহুয়ার ‘মুখ দেখলে দিন খারাপ যায়’। সহকর্মী হলেও তাঁদের সম্পর্ক যে সম্পূর্ণ তিক্ততায় পর্যবসিত হয়েছিল, তা আর আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না।

বিয়েবাড়িতে অপ্রত্যাশিত পুনর্মিলন (Mahua Moitra-Kalyan Banerjee)
তবে রাজনীতির কঠোর বাস্তবতার মাঝেও যে সম্পর্ক বদলাতে পারে, তারই প্রমাণ মিলল রবিবার। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও বিশিষ্ট সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাইয়ের মেয়ের বিয়েতে আমন্ত্রিত ছিলেন দলের একাধিক বর্ষীয়ান নেতা-নেত্রী। সেই অনুষ্ঠানেই একসঙ্গে দেখা গেল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্রকে। শুধু পাশাপাশি দাঁড়ানোই নয় হাসিমুখে কথা বলা, খোঁজখবর নেওয়া এবং একসঙ্গে ছবি তোলার দৃশ্যও ধরা পড়ে।
সৌহার্দ্যের ছবি (Mahua Moitra-Kalyan Banerjee)
এই পুনর্মিলনের মুহূর্তগুলি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সেই ছবিগুলি ফেসবুকে পোস্ট করেন। ছবিতে দেখা যায়, দুই সাংসদই হাসিমুখে, স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। ফ্যাশনের জন্য পরিচিত মহুয়া মৈত্র সেদিন ঘন নীল রঙের জমকালো শাড়ি ও শালে, হালকা মেকআপে নজর কেড়েছেন। কিন্তু তার থেকেও বেশি নজর কেড়েছে তাঁদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য।

আরও পড়ুন: Mid Day Meal Bihar: মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ ৭০ পড়ুয়া, বিহারের স্কুলে চাঞ্চল্য!
রাজনীতির ঊর্ধ্বে ব্যক্তিগত সম্পর্ক?
এই ছবি ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। প্রশ্ন উঠছে এ কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ, না কি সত্যিই অতীতের তিক্ততা ভুলে নতুন সমীকরণের সূচনা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দলীয় ঐক্যের স্বার্থেই এই সৌহার্দ্য প্রদর্শন গুরুত্বপূর্ণ। আবার অনেকের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত ক্ষোভ কাটিয়ে ওঠাটাই পরিণত রাজনীতিবিদের লক্ষণ।



