Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের আকাশে আবারও উজ্জ্বল হল ভারতের নাম (Mamata Banerjee)। ব্রিটিশ চলচ্চিত্রের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার আসর বাফটা পুরস্কার -এর ৭৯তম সংস্করণে ইতিহাস গড়ল মণিপুরি ভাষার ছবি ‘বুং’। ‘বেস্ট চিলড্রেনস অ্যান্ড ফ্যামিলি ফিল্ম’ বিভাগে এই ছবির জয় শুধু একটি পুরস্কার নয়, বরং ভারতীয় আঞ্চলিক সিনেমার আত্মবিশ্বাস ও বৈশ্বিক স্বীকৃতির এক নতুন অধ্যায়।

শিশু ও পারিবারিক ছবির বিভাগে ভারত (Mamata Banerjee)
‘বুং’ প্রথম ভারতীয় ছবি হিসেবে এই বিভাগে সেরার সম্মান অর্জন করল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেখানে বড় বাজেটের হলিউডি ছবি সাধারণত প্রাধান্য পায়, সেখানে মণিপুরের মাটির গন্ধমাখা এক সংবেদনশীল গল্প সবার মন জয় করে নিয়েছে। এই বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল হলিউডের জনপ্রিয় প্রযোজনা যেমন লিলো অ্যান্ড স্টিচ এবং জুট্রোপলিস ২-এর মতো মেগা বাজেটের ছবি। তাদের পিছনে ফেলে ‘বুং’-এর জয় প্রমাণ করে সত্যিকারের গল্প ও মানবিক অনুভূতির শক্তি কখনও অর্থ বা প্রযুক্তির কাছে হার মানে না।
নতুন কণ্ঠের বিশ্বজয় (Mamata Banerjee)
ছবিটি প্রযোজনা করেছেন ফারহান আখতার এবং রিতেশ সিধওয়ানি। নবাগত পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীর সংবেদনশীল নির্মাণশৈলী এই ছবিকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। মণিপুরের উপত্যকায় বেড়ে ওঠা এক ছোট্ট ছেলের সারল্য, ভালোবাসা এবং স্বপ্নের গল্পই ‘বুং’-এর মূল সুর। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক বাস্তবতার মাঝেও শিশুমনের নির্মলতা কীভাবে আলো ছড়ায়, সেটিই ছবির প্রধান বার্তা।

লন্ডনের মঞ্চে ইতিহাস রচনা (Mamata Banerjee)
লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী রয়্যাল ফেস্টিভ্যাল হল-এ আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হয় বিজয়ীর নাম। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত চলচ্চিত্র তারকারা উপস্থিত ছিলেন সেই আসরে। এই জয় শুধু একটি ট্রফি নয় এটি মণিপুরি ভাষা ও সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার বাইরে থাকা উত্তর-পূর্ব ভারতের গল্প এবার বিশ্বমঞ্চে নতুন মর্যাদা পেল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছা বার্তা (Mamata Banerjee)
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামাজিক মাধ্যমে ছবির পুরো টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, এই জয় গোটা ভারতকে গর্বিত করেছে এবং সমস্ত বাধা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই সাফল্য সত্যিই অভিভূত করার মতো। একটি আঞ্চলিক ভাষার ছবি যে বৈশ্বিক পুরস্কার জিততে পারে, তা ভারতের সাংস্কৃতিক বহুত্বের শক্তিকেই আরও একবার তুলে ধরেছে।

আরও পড়ুন: Suniti Kum ar Chatterjee: মহাগ্রন্থের শতবর্ষ! ‘ও-ডি-বি-এল’এই বই বাঙালির আত্মপরিচয়ের শিকড়
ব্যক্তিগত আনন্দের দিনেও সাফল্যের রং
কাকতালীয়ভাবে, পুরস্কার ঘোষণার দিনটিই ছিল ফারহান আখতারের চতুর্থ বিবাহবার্ষিকী। ব্যক্তিগত জীবনের বিশেষ দিনে আন্তর্জাতিক সাফল্যের এই স্বীকৃতি তাঁর জীবনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলির একটি হয়ে থাকবে এ কথা বলাই বাহুল্য। ‘বুং’-এর জয় দেখিয়ে দিল ভারতের শক্তি তার বৈচিত্র্যে। বলিউডের বাইরেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হচ্ছে অসাধারণ সিনেমা, যা বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এই সাফল্য শুধু একটি ছবির নয়, বরং সমগ্র ভারতীয় আঞ্চলিক চলচ্চিত্র শিল্পের। এটি আগামী প্রজন্মের নির্মাতাদের সাহস জোগাবে, নতুন গল্প বলার প্রেরণা দেবে।



