Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের সময় রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য যে ঘোষণা করেছিলেন (Mamata Banerjee), তা বাস্তবে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য চিকিৎসা সংক্রান্ত যে আর্থিক সীমাবদ্ধতা ছিল, তাতে আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। এই সংশোধনী নিঃসন্দেহে রাজ্যের হাজার হাজার পেনশনভোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য স্বস্তির বার্তা বহন করছে।

স্বাস্থ্য প্রকল্পে পুরনো নিয়মের সীমাবদ্ধতা (Mamata Banerjee)
এতদিন পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের অধীনে নথিভুক্ত কর্মী ও পেনশনভোগীরা তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে ইন-পেশেন্ট চিকিৎসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদহীন সুবিধা পেতেন। অর্থাৎ, চিকিৎসার বিল ২ লক্ষ টাকার বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ সম্পূর্ণ নিজেকেই বহন করতে হত। কিন্তু বর্তমান সময়ে বেসরকারি হাসপাতালে জটিল অপারেশন, ক্যানসার চিকিৎসা, হার্ট সার্জারি বা দীর্ঘমেয়াদি আইসিইউ চিকিৎসার খরচ প্রায়ই ২ লক্ষ টাকার সীমা ছাড়িয়ে যায়। ফলে অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীকে আর্থিক চাপে পড়তে হচ্ছিল। চিকিৎসার পাশাপাশি ঋণগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছিল বহু পরিবারের ক্ষেত্রে।
নতুন সংশোধনী: কী বদল হল? (Mamata Banerjee)
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে ২ লক্ষ টাকার বেশি চিকিৎসা খরচের ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ আর্থিক বোঝা রোগীকে বহন করতে হবে না। নতুন ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য: ২ লক্ষ টাকার বেশি যে অংশ হবে, তার ৭৫ শতাংশ সরকার বহন করবে। এই অতিরিক্ত সুবিধা নগদহীন ব্যবস্থার আওতাতেই প্রদান করা হবে। সুবিধাটি কেবলমাত্র সরকার-প্যানেলভুক্ত সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে প্রযোজ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি চিকিৎসার মোট খরচ হয় ৩ লক্ষ টাকা, তবে প্রথম ২ লক্ষ সম্পূর্ণ নগদহীন থাকবে। অতিরিক্ত ১ লক্ষ টাকার মধ্যে ৭৫ হাজার টাকা সরকার বহন করবে এবং বাকি ২৫ হাজার টাকা সুবিধাভোগীকে দিতে হবে।

পারিবারিক পেনশনভোগীদের প্রসঙ্গ (Mamata Banerjee)
বর্তমান সংশোধনীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এই বর্ধিত সুবিধা এখনও পর্যন্ত পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য সরাসরি প্রযোজ্য নয়। তবে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, চাকরিরত কর্মীদের ক্ষেত্রে যে চিকিৎসা অগ্রিম ভাতার বিধান রয়েছে, তার অনুরূপ একটি বিকল্প ব্যবস্থা পেনশনভোগীদের জন্য চালু করার বিষয়ে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা চলছে। এই প্রস্তাবে রাজ্যপালেরও সম্মতি রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সুবিধা চালুর সম্ভাবনা জোরদার করেছে।
সরকারের উদ্দেশ্য ও আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গি (Mamata Banerjee)
২০২৬-২৭ সালের বাজেট প্রস্তাবে এই ঘোষণা করে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল যে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় এনে পেনশনভোগীদের আর্থিক চাপ কমানোই তাদের লক্ষ্য। অর্থ দফতরের মতে, চিকিৎসা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি একটি বাস্তব সমস্যা। সেই প্রেক্ষাপটে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সময়ের দাবি। এই সিদ্ধান্ত মূলত সেই দায়িত্ববোধ থেকেই নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
কর্মচারী সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এর ফলে এক দিকে যেমন উপকৃত হবেন অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মীরা, তেমনই উপকৃত হবেন তাঁদের পরিবার। আমরা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-কে এর জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।” এই প্রতিক্রিয়া থেকেই বোঝা যায়, দীর্ঘদিনের দাবির পর এই সিদ্ধান্ত কর্মচারী মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।



