Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের রাজনীতিতে ফের তীব্র উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এসআইআর (Special Intensive Revision)। শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ছবি ধরা পড়েছে বাংলার নানা প্রান্তে। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগে পথে নেমেছেন বিরোধী দল থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজের একাংশ। তার মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের বারবার নির্দেশিকা বদল রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

নির্দেশিকা বদলের অভিযোগ (Special Intensive Revision)
এই আবহেই শুক্রবার উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার পথে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন নিজের নিয়মই নিজে বদলাচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সবাই জানেন, স্কুলের সার্টিফিকেটকেই আমরা জন্ম সার্টিফিকেট হিসেবে গ্রহণ করি। কারণ, আগে তো সকলের ইনস্টিটিউশন ডেলিভারি হত না।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিন যে নথি বৈধ বলে মানা হচ্ছিল, হঠাৎ করে কেন তা বাতিল করা হচ্ছে? দু’মাস সময় দিয়ে নতুন করে ‘চ্যাপ্টার খোলার’ নির্দেশ সাধারণ মানুষের পক্ষে কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন তিনি।
আধার, ডোমিসাইল ও নথি বিতর্ক (Special Intensive Revision)
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে আধার কার্ড ও ডোমিসাইল সার্টিফিকেট। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আধার কার্ড গ্রহণ করা হচ্ছে না। অথচ ডোমিসাইল সার্টিফিকেট এমন একটি নথি, যা সারা দেশে গ্রহণযোগ্য। মমতার কটাক্ষ, “ডোমিসাইল সার্টিফিকেট যেটা সব জায়গায় গ্রহণযোগ্য, বাংলায় বলছে হবে না।” এই দ্বিচারিতাই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে মত তাঁর।

মালদহের নোটিস বিতর্ক ও নাগরিক উদ্বেগ (Special Intensive Revision)
এসআইআর ইস্যুতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠে এসেছে মালদহ জেলা থেকে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, একটি নির্দিষ্ট কমিউনিটির প্রায় ৯০ হাজার মানুষকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। শুধু সাধারণ মানুষই নন, এই তালিকায় রয়েছেন অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী থেকে শুরু করে জনপ্রিয় অভিনেতা দেব এমন বহু পরিচিত নাম। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভোটার তালিকা সংশোধনের আড়ালে নাগরিকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করা হচ্ছে? তবে কি ভয় দেখিয়ে ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে?
গণতন্ত্র নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন (Special Intensive Revision)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে সবচেয়ে তীব্র হয়ে উঠেছে গণতন্ত্র নিয়ে তাঁর প্রশ্ন। তিনি বলেন, “তাহলে ভোট কে করবে? কমিশন, হোম মিনিস্টার আর বিজেপি মিলে?” এই মন্তব্যে স্পষ্ট, এসআইআর প্রক্রিয়াকে তিনি শুধুই প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন না; বরং একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এভাবে চললে বাংলায় একসময় ১ শতাংশ ভোটারও অবশিষ্ট থাকবে না।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা “কোনও রাজ্যে হচ্ছে না এগুলো, বাংলায় হচ্ছে। কেন?” তিনি নির্বাচন কমিশনের ‘চেয়ারের মর্যাদা’ রক্ষার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যদি রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে বিদ্ধ হয়, তবে জনগণের আস্থা নষ্ট হয়।

আদালতের উপর আস্থা ও লড়াইয়ের বার্তা
এই ইস্যু ইতিমধ্যেই আদালতের বিচারাধীন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি আদালতের সুবিচারের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখেন। তাঁর বিশ্বাস, এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে সাধারণ মানুষ। তিনি বলেন, “আমি সবসময় মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব। অন্যায়, অত্যাচার, একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই চলছে, চলবে।”



