Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দোল পূর্ণিমার প্রাক্কালে রাজ্যবাসীর জন্য একাধিক বার্তা ও উদ্যোগ নিয়ে সোমবার গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে তিনি উদ্বোধন করলেন বহু প্রতীক্ষিত কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে, পাশাপাশি এসআইআর আতঙ্কে মৃত ৩৬ জনের পরিবারের হাতে তুলে দিলেন চাকরির নিয়োগপত্র। উন্নয়ন, সহমর্মিতা এবং উৎসবের আবহ তিনের সমন্বয়ে দিনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করল।

উত্তরবঙ্গের দোরগোড়ায় আধুনিক সংযোগ (Mamata Banerjee)
প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকার ব্যয়ে নির্মিত ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে এক মাইলফলক। অত্যাধুনিক ৪/৬ লেন বিশিষ্ট এই সিগন্যাল-ফ্রি সড়কে রয়েছে মোট ২১টি ফ্লাইওভার, যা যাতায়াতকে করবে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন। এই এক্সপ্রেসওয়ের এক প্রান্ত যুক্ত হয়েছে নিমতায় বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে-এর সঙ্গে। অন্য প্রান্ত সংযুক্ত হচ্ছে গঙ্গার উপর নির্মীয়মাণ ঈশ্বর গুপ্ত সেতু এবং ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের বড় জাগুলিতে। ফলে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ আরও দ্রুত ও মসৃণ হবে। এতদিন যে দূরত্ব অতিক্রম করতে প্রায় দু’ঘণ্টা সময় লাগত, এখন সেই সময় কমে আসবে প্রায় অর্ধেকে। যানজট এড়িয়ে স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছনো সম্ভব হবে।
শিল্প-বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত (Mamata Banerjee)
প্রশাসনের দাবি, এই এক্সপ্রেসওয়ে কেবল যাতায়াত সহজ করবে না, বরং শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। কল্যাণী শিল্পাঞ্চল, হরিণঘাটা ও সংলগ্ন অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। দ্রুত পরিবহণ ব্যবস্থার ফলে পণ্য পরিবহণ খরচ কমবে, সময় সাশ্রয় হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও এই সড়ক গতি আনবে বলে মনে করছে প্রশাসন। উন্নত সংযোগের ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে।

মৃতদের পরিবারে চাকরির নিয়োগপত্র (Mamata Banerjee)
উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই এসআইআর আতঙ্কে মৃত ৩৬ জনের পরিবারের একজন করে সদস্যের হাতে হোমগার্ড পদে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পদক্ষেপকে অনেকেই প্রশাসনের মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। নিয়োগপত্র পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁদের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই উদ্যোগ কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং মানসিকভাবে ভরসা জোগানোরও একটি প্রয়াস।
আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
প্রাক দোল উৎসবের আবহ
দোল পূর্ণিমার আগে অনুষ্ঠানে ছিল উৎসবের রঙও। মুখ্যমন্ত্রী সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দেন। উন্নয়ন ও মানবিকতার সঙ্গে উৎসবের আনন্দ মিলিয়ে দিনটি রাজ্যবাসীর কাছে হয়ে উঠল বহুমাত্রিক।



