Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দেশপ্রিয় পার্কে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন ভাষাদিবসের মঞ্চ থেকে তিনি বলেন ২১ ফেব্রুয়ারিকে আমরা শুধু ভাষার দিন হিসেবে দেখি না, এটি মানবতা এবং প্রতিটি ভাষা উদযাপনের দিন(Mamata Language)। এই দিনটি সংহতির দর্পণ এবং যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। আমরা সমস্ত ভাষাকে শ্রদ্ধা করি কারণ আমরা শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের দেশের লোক।
অনন্ত মহারাজকে শ্রদ্ধা (Mamata Language)
আমরা অনন্ত মহারাজ এবং তাঁর রাজবংশী সমাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তিনি সুস্থ থাকুন এবং সমাজের জন্য কাজ করে যান। তিনি এখানে উপস্থিত থাকায় আমরা গর্বিত। রাজবংশী সম্প্রদায় থেকে অনন্ত মহারাজ আছেন, তেমনি বাউরি, বাগদি, মতুয়া এবং বাউল সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধেয় মানুষেরাও আছেন। এখানে উপস্থিত সকলে, যাঁরা নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শন করেছেন এবং যাঁরা আজ ‘বঙ্গভূষণ’ ও ‘বঙ্গবিভূষণ’ পাচ্ছেন ও তাঁদের পরিবারবর্গ— সকলকে আমি স্বাগত জানাই।
‘আমাদের ভাষাকে অসম্মান করবেন না’
মমতা বলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব যে মাটিতে জন্মেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং সূর্য সেনের মতো মহাপুরুষরা যেখানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, স্বামী বিবেকানন্দও এই ভাষাতেই কথা বলতেন। কোনও ভাষার ওপর আঘাত এলে আমরা তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব, কিন্তু দয়া করে আমাদের ভাষাকে অসম্মান করবেন না। অনেক জায়গায় আমরা দেখছি যে, শুধু বাংলা বলার কারণে মানুষকে “অনুপ্রবেশকারী” তকমা দেওয়া হচ্ছে এবং হেনস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু কেন? দেশটা তো ভারতবর্ষ।
‘বাংলা স্বীকৃত এবং অষ্টম তফশিলভুক্ত’
এদিনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি আমরা রাজবংশী, নেপালি, গুরুমুখী, কামতাপুরী, কুড়মালি, হিন্দি এবং উর্দু-সহ অনেক ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছি। আর যারা বাংলার ওপর অত্যাচার করছে, অন্য সম্প্রদায়ের কিছু নির্দিষ্ট মানুষ যারা বাংলাকে বিদেশি ভাষা বলছে, আমি তাদের বলতে চাই যে, বাংলা ভাষা আপনাদের দয়ায় আসেনি। ১৯৫০ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় থেকেই বাংলা স্বীকৃত এবং অষ্টম তফশিলভুক্ত।
‘বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি’ (Mamata Language)
মমতার অভিযোগ অন্য প্রতিটি রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও বাংলাকে দেওয়া হয়নি। আমি এই কারণে ব্রাত্য বসুদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, তিনি সঠিক গবেষণার পর বাংলা সাহিত্য একাডেমি থেকে প্রায় ১০ বস্তা বই দিল্লিতে পাঠিয়েছিলেন, যা ওরা অস্বীকার করতে পারেনি। গতবার দিল্লি সাহিত্য একাডেমি বাংলাকে বিবেচনা করেনি। এবারও আপনারা বাংলার কাউকে কিছু দেননি, কিন্তু কেন? মনে রাখবেন, বাংলার প্রতি কোনও অপমান আমরা মেনে নেব না।
‘বাংলা মাথা নত করে না’ (Mamata Language)
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন বাংলা ছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা হত না; নবজাগরণ হত না। বাংলা ছাড়া সমাজ সংস্কার সম্ভব হত না। বাংলা ছাড়া সতীদাহ প্রথা রদ হত না; বাংলা ছাড়া ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শুরু করা বিধবা বিবাহ চালু হত না। আর সেই বাংলাতেই আপনারা সমস্ত এজেন্সি ব্যবহার করে গায়ের জোরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান। বাংলা সবকিছু সহ্য করতে পারে এবং দেশ ও মাটির জন্য জীবন বিসর্জন দিতে পারে, কিন্তু কারও কাছে মাথা নত করে না। আমরা কেবল মানুষ, দেশের মাটি এবং আমাদের মায়ের কাছে মাথা নত করি, “দিল্লির লাড্ডু”-র কাছে নয়।



