Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সিনেমার প্রচার আজ আর পোস্টার–ট্রেলারের গণ্ডিতে আটকে নেই (Mardaani 3)। ডিজিটাল যুগে দর্শকের মনোযোগ কেড়ে নিতে নির্মাতারা একের পর এক অভিনব কৌশল নিচ্ছেন কখনও ভুয়ো বিতর্ক, কখনও সাজানো ‘লিক’, আবার কখনও সমাজমাধ্যমে পরিকল্পিত গুজব। কিন্তু সেই প্রচারের সীমা কোথায় শেষ হওয়া উচিত? সাম্প্রতিক ‘মর্দানি ৩’ ঘিরে তৈরি বিতর্ক সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

সমাজমাধ্যমে ছড়ানো আতঙ্ক (Mardaani 3)
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের গোড়া থেকেই সোশাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট ভাইরাল হতে শুরু করে। কোথাও লেখা “দিল্লি থেকে গত এক সপ্তাহে নিখোঁজ ৩০০ জন”, কোথাও আবার দাবি “শিশু ও তরুণীদের টার্গেট করছে একটি সংঘবদ্ধ পাচারচক্র”।
এই সব পোস্টের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় ডায়েরির ছবি, হাতে লেখা নোট, এমনকি নিখোঁজ ব্যক্তির কাল্পনিক বিবরণ। বিষয়টি এতটাই বাস্তব মনে হচ্ছিল যে অনেকেই তা যাচাই না করেই শেয়ার করতে শুরু করেন। ফলে রাজধানী দিল্লিতে তৈরি হয় আতঙ্কের আবহ। অভিভাবকরা সন্তানদের একা বাইরে যেতে দিচ্ছিলেন না, বহু স্কুলে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, এমনকি কিছু এলাকায় রাতের টহল বাড়ানোর দাবিও ওঠে।
গুজবের নেপথ্যে কী? (Mardaani 3)
পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠতেই নড়েচড়ে বসে দিল্লি পুলিশ। সোশাল মিডিয়ার ভাইরাল পোস্ট, আইডি, হ্যাশট্যাগ সব কিছু খতিয়ে দেখতে শুরু করে সাইবার সেল। তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য এই ‘নিখোঁজ’-সংক্রান্ত পোস্টগুলির কোনও বাস্তব নথি নেই। থানায় এমন কোনও গণ-নিখোঁজের অভিযোগ দায়েরই হয়নি। আরও গভীরে গিয়ে পুলিশ লক্ষ্য করে, এই পোস্টগুলির সময়কাল ও বিষয়বস্তু অদ্ভুতভাবে মিলছে একটি আসন্ন বলিউড ছবির গল্পের সঙ্গে যার নাম ‘মর্দানি ৩’।

সমাজ সচেতনতা না কি পরিকল্পিত ভীতি? (Mardaani 3)
রানি মুখোপাধ্যায়ের ‘মর্দানি’ ফ্র্যাঞ্চাইজি বরাবরই নারী নির্যাতন, নারী পাচারের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কথা বলে এসেছে।
কেরিয়ারের তিন দশক পূর্তিতে ‘মর্দানি ৩’-এ আবারও এক দোর্দণ্ডপ্রতাপ পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে তাঁকে যিনি নারী পাচারের আন্তর্জাতিক চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। সমস্যা শুরু হয় এখানেই। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ভাইরাল হওয়া বহু পোস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন শব্দচয়ন ও গল্প ব্যবহার করা হয়েছে, যা ছবির কাহিনির সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মিলে যায়। আরও অভিযোগ এই প্রচার পরিকল্পিত এবং অর্থের বিনিময়ে করানো হয়েছে।
প্রচারের সীমা কোথায়? (Mardaani 3)
সিনেমা প্রচারের জন্য ‘গেরিলা মার্কেটিং’ নতুন নয়। হলিউডে বহুবার দেখা গেছে বাস্তবের সঙ্গে কল্পনার সীমা ঝাপসা করে প্রচার চালানো হয়েছে। কিন্তু ভারতে, বিশেষ করে নারী নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে, এমন কৌশল কতটা গ্রহণযোগ্য? যে ছবির উদ্দেশ্য সমাজকে সচেতন করা, সেই ছবির প্রচার যদি সমাজে ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি করে তবে তা কি নিজের বার্তাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে না?

আরও পড়ুন: H5N1 Outbreak: শতাধিক কাকের মৃত্যু, পরীক্ষায় ধরা পড়ল H5N1 ভাইরাস
দিল্লি পুলিশের কড়া বার্তা
এই গোটা ঘটনার পর দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানায়, “দিল্লিতে কোনও গণ-নিখোঁজের ঘটনা ঘটেনি। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।” একইসঙ্গে, নাম উল্লেখ না করলেও স্পষ্ট ভাষায় সিনেমা নির্মাতা ও বিপণন সংস্থাগুলিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, “ব্যবসায়িক লাভের জন্য জনসাধারণের মধ্যে ভয় ছড়ানো বরদাস্ত করা হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট, প্রশাসন বিষয়টিকে নিছক প্রচার কৌশল হিসেবে দেখছে না, বরং আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন হিসেবেই বিবেচনা করছে।



