Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হোলির রঙে রাঙা দুপুর হঠাৎই আতঙ্কের কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেল উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম অঞ্চলে (Madhyamgram)। মধ্যমগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন ঘিঞ্জি এলাকায় একাধিক দোকানে বিধ্বংসী আগুন লেগে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। উৎসবের আনন্দ মুহূর্তে বদলে যায় চরম আতঙ্কে।

কীভাবে শুরু হল আগুন? (Madhyamgram)
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে একটি মিষ্টির দোকানে আগুন লাগে। ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অনুমান করা হচ্ছে, রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার থেকেই বিপত্তির শুরু। সেখান থেকে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের দোকানগুলিতে। এলাকায় একের পর এক খাবারের দোকান থাকায় বহু গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ছিল। ফলে আগুন লাগার পর পরই সিলিন্ডার ফাটতে শুরু করে। বিস্ফোরণের পর বিস্ফোরণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়,
“পরপর ৮-১০টা দোকানে আগুন ধরে যায়।
আতঙ্কে ছুটোছুটি, রাস্তায় বিশৃঙ্খলা (Madhyamgram)
হোলির দুপুর হওয়ায় বিভিন্ন দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন ক্রেতা ও স্থানীয়রা। কেউ জল ঢালার চেষ্টা করেন, কেউবা দোকান থেকে মালপত্র সরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। ঘিঞ্জি এলাকা এবং সরু রাস্তার কারণে দমকলের গাড়ি ঢুকতেও বেগ পেতে হয়। আগুনের তাপে আশেপাশের বাড়িঘরও আতঙ্কে কাঁপতে থাকে।
দমকল ও পুলিশের তৎপরতা (Madhyamgram)
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু হয় জোরদার চেষ্টা। পাশাপাশি মধ্যমগ্রাম থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বারাসতের এসডিপিও, ডিএসপি ট্র্যাফিক-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক। তাঁদের তত্ত্বাবধানে আগুন নেভানোর কাজ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
প্রশাসনিক প্রশ্ন (Madhyamgram)
সূত্রের খবর, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন স্থানীয় কাউন্সিলার তথা মধ্যমগ্রাম পুরসভার উপপুরপ্রধান প্রকাশ রাহা। তিনি বলেন, “খাবারের দোকান থেকেই আগুন লেগেছে। সিলিন্ডার ফেটেছে। তাতেই এই ঘটনা। তবে এই দোকানগুলি কেন এবং কীভাবে এখানে গড়ে উঠল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে আমাদের দিকেও প্রশ্ন আসবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।” এলাকার একাংশের অভিযোগ, স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে দোকান গড়ে ওঠায় নিরাপত্তা বিধি মানা হয়নি। গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার যথাযথ মানদণ্ড মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, অন্তত ৮ থেকে ১০টি দোকান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত হতাহতের খবর মেলেনি, তবে আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কয়েকজন। আগুন লাগার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে ঘটনার উৎস খতিয়ে দেখছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে কঠোর নিরাপত্তা বিধি প্রণয়নের দাবিও উঠেছে স্থানীয়দের তরফে।



