Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বড়দিনের আনন্দের রাতেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়াল পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর এলাকায় (Ramnagar Market)। দিঘার অদূরে রামনগরের বলোকবার বাজারে গভীর রাতে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল পরপর তিনটি দোকান। এর মধ্যে দু’টি মিষ্টির দোকান এবং একটি স্টেশনারি দোকান। বর্ষশেষের উৎসবের মরশুমে এমন ঘটনায় মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের।

গভীর রাতে আচমকা আগুন (Ramnagar Market)
ঘড়ির কাঁটা তখন আনুমানিক রাত আড়াইটে থেকে তিনটে। আচমকাই একটি মিষ্টির দোকান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। দোকানের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরেকটি মিষ্টির দোকান এবং সংলগ্ন স্টেশনারি দোকানে। চিৎকার-চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙে এলাকার বাসিন্দাদের। দোকানের কর্মীরাও ছুটে আসেন। প্রাণপণে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু হয়।
দমকলের যুদ্ধকালীন তৎপরতা (Ramnagar Market)
খবর দেওয়া হয় দমকলে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের দু’টি ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় আগুন নেভানোর কাজ। তার আগেই স্থানীয়রা জল এবং অন্যান্য উপায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও সফল হননি। অবশেষে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি (Ramnagar Market)
এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একটি মিষ্টির দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ মিষ্টি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পাশাপাশি অন্তত সাতটি ফ্রিজ আগুনে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। উৎসবের মরশুমে এমন ঘটনায় ভবিষ্যৎ ব্যবসা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় তাঁরা।
কী কারণে আগুন?
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শর্টসার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে শুধু শর্টসার্কিট নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। দোকান কর্মীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই রাতের বিভীষিকা। তাঁদের কথায়, “ভোররাতে স্থানীয়দের চিৎকার শুনে ছুটে আসি। এসে দেখি গোটা দোকান জ্বলছে। নিজেরা জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি, কিন্তু ব্যর্থ হই। পরে দমকলকে খবর দেওয়া হয়। দমকল আগুন নেভালেও তিনটি দোকানই পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।”



