Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ওড়িশার কটকের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন চিকিৎসাকেন্দ্র এসসিবি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-এ গভীর রাতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা (Orissa)। হাসপাতালের আইসিইউ-তে শর্ট সার্কিট থেকে শুরু হওয়া আগুন মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সেই আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০ জন রোগীর। আহত হয়েছেন আরও অনেকে, যাদের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মীও। ঘটনার পর গোটা রাজ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গভীর রাতে আচমকা আগুন (Orissa)
ঘড়ির কাঁটা তখন রাত প্রায় আড়াইটে। হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে হঠাৎই বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে ধোঁয়া দেখা যায়, তারপর মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা আইসিইউ জুড়ে। গভীর রাতে অধিকাংশ রোগী তখন ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। আচমকা আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের ভেতরে চরম আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়। রোগী, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং ডিউটিতে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীরা ছুটোছুটি শুরু করেন। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে আইসিইউ কার্যত জতুগৃহে পরিণত হয়। দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হলেও ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে কয়েকজন রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়েন স্বাস্থ্যকর্মীরা (Orissa)
আগুন লাগার পর হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আইসিইউ থেকে একের পর এক রোগীকে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। এই উদ্ধার অভিযানের সময়ই আগুনের শিখায় ঝলসে যান অন্তত ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী। তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপে বহু রোগীর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হলেও শেষ পর্যন্ত ১০ জন রোগীকে বাঁচানো যায়নি।
মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ল চিকিৎসাধীন অবস্থায় (Orissa)
প্রাথমিকভাবে আগুনের ঘটনায় আইসিইউ-তেই ৭ জন রোগীর মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও ৩ জন রোগী প্রাণ হারান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০-এ। হাসপাতালে ভর্তি অন্যান্য আহতদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা (Orissa)
ঘটনার খবর পেয়ে ভোর হতেই হাসপাতালে ছুটে যান ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী Mohan Charan Majhi। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী Mukesh Mahaling। মুখ্যমন্ত্রী নিজে হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টার এবং আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত আইসিইউ ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি আহত রোগী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি জানান, আহতদের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব রাজ্য সরকার বহন করবে।
মৃতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্য (Orissa)
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, প্রতিটি মৃত রোগীর পরিবারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এছাড়াও আহতদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ (Orissa)
কীভাবে এত বড় হাসপাতালের আইসিইউ-তে এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে তবেই পরিষ্কার হবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় কার।
আরও পড়ুন: Rail Death AI: রেললাইনে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধ, AI ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রেলমন্ত্রকের
হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
এই দুর্ঘটনা আবারও হাসপাতালের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আইসিইউ-এর মতো সংবেদনশীল বিভাগে সাধারণত অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি এবং অক্সিজেন লাইনের উপস্থিতি থাকে, ফলে সামান্য বৈদ্যুতিক ত্রুটিও বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা, আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত রোগী স্থানান্তরের পরিকল্পনা না থাকলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।



