Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলায় (Mathura Incident) মর্মান্তিক ঘটনা। একই পরিবারের পাঁচ জনের নিথর দেহ উদ্ধার হল একটি বাড়ি থেকে। মৃতদের মধ্যে রয়েছে তিনটি ছোট শিশু। ঘটনাটি ঘটেছে মথুরা জেলার মহাবন থানা এলাকার একটি আবাসিক এলাকায়। এই ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। পাশাপাশি ফের একবার সামনে এসেছে ২০১৮ সালের দিল্লির বহুচর্চিত বুরারি কাণ্ডের বিভীষিকাময় স্মৃতি।
দীর্ঘ সময় ধরে দরজা বন্ধ (Mathura Incident)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল (Mathura Incident) থেকে ওই বাড়ির ভিতর কোনও রকম সাড়া-শব্দ না পাওয়ায় প্রথমে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। দীর্ঘ সময় ধরে দরজা বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হয়। পরে জানালা দিয়ে উঁকি দিতেই চমকে ওঠেন তাঁরা। দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছেন স্বামী, স্ত্রী এবং তাঁদের তিন সন্তান। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় মহাবন থানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ঘরের ভিতর ঢুকে পাঁচ জনকেই অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য মথুরা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং ফরেনসিক টিমকেও ডাকা হয়।
দুধে বিষ মিশিয়ে পান (Mathura Incident)
তদন্ত চলাকালীন ঘরের ভিতর থেকে একটি দুধভর্তি (Mathura Incident) গ্লাস উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি রান্নাঘরের দেওয়ালে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ছিল- ‘আমরা আত্মহত্যা করছি’। এই লেখাই তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দুধে বিষ মিশিয়ে তা পান করেই পরিবারের সদস্যরা আত্মঘাতী হয়েছেন। যদিও বিষের ধরন ও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম ৩৫ বছর বয়সি কৃষক মনীশ। তাঁর স্ত্রী সীমা এবং তাঁদের তিন সন্তান— পাঁচ বছরের হানি, চার বছরের প্রিয়াংশী ও মাত্র দুই বছরের পঙ্কজও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। জানা গিয়েছে, মনীশের দুই ভাই পাশের বাড়িতেই থাকতেন। তবে ঘটনার সময় তাঁরা বাড়িতে ছিলেন না।

কেন এরকম পদক্ষেপ? (Mathura Incident)
পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, মনীশ ও সীমার বিয়ে হয়েছিল ২০১৮ সালে। দাম্পত্য জীবনে প্রকাশ্য কোনও অশান্তির কথা শোনা যায়নি। পরিবারের আর্থিক অবস্থা বা ব্যক্তিগত জীবনে কোনও চাপ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনও মানসিক অবসাদ, পারিবারিক চাপ বা অন্য কোনও গোপন সমস্যার ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
দিল্লির বুরারি কাণ্ডের প্রসঙ্গ
এই ঘটনার পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে দিল্লির বুরারি কাণ্ডের প্রসঙ্গ। ২০১৮ সালের ১ জুলাই দিল্লির বুরারিতে একই পরিবারের ১১ জনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। তদন্তে জানা যায়, সেটি কোনও খুন নয়, বরং কুসংস্কার ও মানসিক প্রভাবের জেরে সংঘটিত গণআত্মহত্যা ছিল। যদিও মথুরার এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও যোগ পাওয়া যায়নি, তবুও ঘটনাটির ভয়াবহতা সাধারণ মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: White Hair: অল্প বয়সে পাকা চুলের সমস্যা? কোন শরীর খারাপের ইঙ্গিত?
এলাকায় চাঞ্চল্য
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


