Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ছয় বছর বয়সে হঠাৎ (Maya Bhammar) জ্বর। গ্রামের এক চিকিৎসকের দেওয়া ইনজেকশনের পরদিন সকালে ঘুম ভেঙে ছোট্ট মায়াভাই ভাম্মার বুঝতে পারেন, তাঁর পা আর নড়ছে না। পরে জানা যায়, পোলিও আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, আর কোনওদিন স্বাভাবিকভাবে হাঁটা সম্ভব নয়। সেই কঠিন সময় থেকেই শুরু হয় এক অদম্য লড়াই।
ছোট থেকেই লড়াই (Maya Bhammar)
ভাভনগরের কৃষক পরিবারে জন্ম (Maya Bhammar) মায়াভাইয়ের। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবচেয়ে ছোট। আর্থিক অবস্থা ভালো না হলেও বাবা-মা হাল ছাড়েননি। ভেরাভলে প্রতিবন্ধী শিশুদের একটি আবাসিক বিদ্যালয়ে তাঁকে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ফ্রি থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনার সুযোগ পান তিনি। পরে গান্ধীনগর ও আমদাবাদে পড়াশোনা চালিয়ে সমাজতত্ত্বে স্নাতক হন।

আত্মবিশ্বাস খুঁজে পান (Maya Bhammar)
কলেজ জীবনে ব্লাইন্ড পিপল’স অ্যাসোসিয়েশন (BPA)-এর সঙ্গে যুক্ত হন মায়াভাই। সেখানেই তিনি নতুন আত্মবিশ্বাস খুঁজে পান। টেইলারিং, স্টেনোগ্রাফি ও ডেস্কটপ পাবলিশিং (DTP) শেখেন। বর্তমানে সেখানেই অন্যদের প্রশিক্ষণ দেন এবং স্টাইপেন্ড পান ২০১৯ সালে তিনি প্যারা পাওয়ারলিফটিং শুরু করেন। কঠোর অনুশীলন ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে সাফল্য পান। গুজরাত স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে পরপর তিন বছর দ্বিতীয় হন। খেলো ইন্ডিয়া প্যারা গেমসে জেতেন ব্রোঞ্জ পদক। ২০২৬ সালে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ৪৯ কেজি বিভাগে ১১৫ কেজি ওজন তুলে রুপো জেতেন তিনি।

আরও পড়ুন: Pakistan Hockey Team: বিল না মেটানোয় এঁটো বাসন মাজল পাকিস্তান দল!
খেলার পাশাপাশি স্বনির্ভর হতে ২০২১ সালে আমদাবাদে জোম্যাটোর প্রথম প্রতিবন্ধী ডেলিভারি পার্টনার হিসেবে কাজ শুরু করেন। কাস্টমাইজড স্কুটার ব্যবহার করে প্রতিদিন রাতের শিফটে কাজ করেন। উপার্জনের অর্থ দিয়ে নিজের ডায়েট ও প্রশিক্ষণের খরচ চালান। মায়াভাই বলেন, “আমি যখন ওজন তুলি, তখন প্রতিবন্ধকতার কথা ভাবি না।” তাঁর লক্ষ্য, একদিন ভারতের হয়ে সোনা জেতা।


