Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লিতে শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই (Medicine Sell For Pollution) ক্রমশ উদ্বেগজনক আকার নিচ্ছে বায়ুদূষণ। রাজধানীর বাতাসে ক্ষতিকর কণার মাত্রা বাড়ায় তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যে। চোখে জ্বালা ও লালচে ভাব, চোখের শুষ্কতা, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা এবং নাক দিয়ে জল পড়ার মতো উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই বহু মানুষ চিকিৎসার খোঁজে বেরোচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তের ওষুধের দোকানে চোখের ড্রপ, মাস্ক, নেবুলাইজার ও শ্বাসযন্ত্র সংক্রান্ত চিকিৎসা সামগ্রীর বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গিয়েছে।
শীতকাল এলেই দূষণের মাত্রা বাড়ে (Medicine Sell For Pollution)
মেডিক্যাল স্টোর মালিক ও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে (Medicine Sell For Pollution) জানা গিয়েছে, প্রতি বছর শীতকাল এলেই দূষণের মাত্রা বাড়ে এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদা। তবে চলতি বছরে চোখের সমস্যার অভিযোগ তুলনামূলক ভাবে বেশি হওয়ায় চোখের ড্রপের বিক্রি অন্য সব ওষুধের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। লুটিয়েন্স দিল্লির কেয়ার কেমিস্টস-এর কর্মী সুরেশ জানান, দূষণের মাত্রা বেড়ে গেলে চোখের ড্রপ, নাকের স্প্রে এবং মাস্কের বিক্রি স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে যায়। সাধারণত শীতকালে কাশি-সিরাপ ও ঠান্ডাজনিত ওষুধের চাহিদা বেশি থাকে, কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। তাঁর কথায়, “এ বার সবচেয়ে দ্রুত বিক্রি হচ্ছে চোখের ড্রপ। দূষণের কারণে মানুষের চোখে জ্বালা ও অস্বস্তির সমস্যা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।”
চোখ শুকিয়ে যাওয়ার অভিযোগ (Medicine Sell For Pollution)
আরএমএল হাসপাতালের কাছের রাম ফার্মাসির কেমিস্ট (Medicine Sell For Pollution) শ্রাবণ বলেন, প্রায় প্রতিদিনই মানুষ চোখে জ্বালা, লালচে ভাব ও চোখ শুকিয়ে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে তাঁর দোকানে আসছেন। সেই কারণে চোখের ড্রপের পাশাপাশি স্টিম নেওয়ার যন্ত্র, নেবুলাইজার এবং নাসাল স্প্রের বিক্রি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন রাজকমল কেমিস্টস-এর কেমিস্ট অমিত গুপ্ত। তাঁর মতে, শীত ও দূষণের মিলিত প্রভাবেই চোখের শুষ্কতা এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, এই সময়ে চোখের ড্রপ ও নাসাল স্প্রের বিক্রি অন্তত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ঠান্ডা ও দূষণের কারণে চোখ খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়, যার ফলে বারবার ড্রপ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষ।
দিল্লি ড্রাগ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (Medicine Sell For Pollution)
এই প্রবণতাকে মরসুমি বলেই ব্যাখ্যা করেছে দিল্লি ড্রাগ ট্রেডার্স (Medicine Sell For Pollution) অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশিস দাভরাজ জানান, প্রতি বছর শীত পড়লেই চোখে জ্বালা ও অস্বস্তির অভিযোগ বাড়ে এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চোখের ড্রপ, মাস্ক ও শ্বাসযন্ত্র সংক্রান্ত পণ্যের বিক্রিও বৃদ্ধি পায়। তাঁর দাবি, গড় হিসেবে এই সময়ে বিক্রি প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এ বছর নেবুলাইজারের চাহিদাও কিছুটা বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। যেসব পরিবারে নবজাতক শিশু বা বয়স্ক সদস্য রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে নতুন করে নেবুলাইজার কেনা বা পুরনো যন্ত্র বদলানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
নেবুলাইজারের বিক্রি
গোল মার্কেট এলাকার এক কেমিস্ট ইরফান জানান, সাম্প্রতিক দিনে নেবুলাইজারের বিক্রি তাঁদের কাছেও অপ্রত্যাশিত ভাবে বেড়েছে। তাঁর কথায়, “নেবুলাইজার সাধারণত খুব ঘনঘন বিক্রি হয় না, কারণ এগুলি দামি এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। কিন্তু গত কয়েক দিনে পাঁচজন ক্রেতা নেবুলাইজার কিনেছেন। এমনকি এক বিদেশি দম্পতি তাঁদের শিশুর শ্বাসকষ্টের কারণে নেবুলাইজার কিনে নিয়ে গিয়েছেন।”
অনেক কেমিস্টই জানাচ্ছেন, একই ধরনের পণ্য কিনতে ক্রেতারা বারবার দোকানে ফিরছেন। ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই চোখের ড্রপ বা নাসাল স্প্রে শেষ হয়ে যাওয়ায় মানুষ নতুন করে তা কিনতে আসছেন। পাশাপাশি গলার লজেন্স ও দূষণজনিত অস্বস্তি কমানোর ওষুধের বিক্রিও চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। ক্রেতারাও বলছেন, আগে একটি বা দুটি ওষুধেই পরিবারের প্রয়োজন মিটে যেত। কিন্তু আগের তুলনায় এখন ফার্মেসিতে যাতায়াত অনেক বেড়ে গিয়েছে।এখন বয়স্ক সদস্যদের জন্য চোখের ড্রপ, স্কুলে যাওয়া শিশুদের জন্য মাস্ক এবং নিজেদের জন্য বিভিন্ন ট্যাবলেট আলাদা করে কিনতে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দিল্লির শীতকালীন দূষণ যে ধীরে ধীরে রাজধানীর জনস্বাস্থ্যের উপর বড় চাপ তৈরি করছে, এই বাড়তে থাকা ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর বিক্রিই তার স্পষ্ট প্রমাণ দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী দিনে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।


