Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কুখ্যাত মাদক সম্রাটের মৃত্যুর পর (Mexico) কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মেক্সিকো-তে। দেশের পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ অস্থিরতা। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ, দফায় দফায় সংঘর্ষ, বাস ও ট্রাকে অগ্নিসংযোগ-পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গত দু’দিনে সংঘর্ষে বিশেষ বাহিনীর অন্তত ২৫ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তপ্ত এলাকায় প্রায় ১১ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ন্যাশনাল গার্ড, সেনা ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।
এল মেনচোর মাথার দাম (Mexico)
রবিবার ভোরে এক গোপন অভিযানে নিহত হন কুখ্যাত ড্রাগ লর্ড (Mexico) নেমেসিও রুবেন ওসেগেরা সেরভান্তেস, যিনি ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আমেরিকা। এল মেনচোর মাথার দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক মহলে জানা যায়।

‘বড় সাফল্য’ (Mexico)
মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে (Mexico) প্রতিক্রিয়া জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি একে ‘বড় সাফল্য’ বলে উল্লেখ করেন। তবে এই মন্তব্যের পর থেকেই উত্তেজনা আরও বাড়ে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।এল মেনচোর মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় দেশজুড়ে তাণ্ডব শুরু করেছে মাদক চক্রের অনুগামীরা। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক রাজ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি অশান্তির খবর এসেছে জালিস্কো, মিচোয়াকান, গুয়েরেরো, তামাউলিপাস ও নুয়েভো লিওন থেকে। অভিযোগ, একাধিক হাইওয়েতে ট্রাক দাঁড় করিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ঘরবন্দি। স্কুল-কলেজ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বহু জায়গায় বন্ধ রাখা হয়েছে। ন্যাশনাল গার্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ২৫ জন নিরাপত্তারক্ষী। পাশাপাশি অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আহতের সংখ্যা আরও বেশি।

প্রশাসনের আশঙ্কা (Mexico)
প্রশাসনের আশঙ্কা, এল মেনচোর মৃত্যুর ফলে মাদক চক্রের (Mexico) ভিতরে ক্ষমতার লড়াই আরও তীব্র হতে পারে। এতে সংঘর্ষ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র, পরিবহণ হাব এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। ড্রোন নজরদারি ও আকাশপথে টহল জোরদার করা হয়েছে।
মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী
এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে মেক্সিকোয় কর্মরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে একটি মার্কিন সংস্থা। মেক্সিকো থেকে আমেরিকাগামী প্রতিটি বিমানে আগাম টিকিট সংরক্ষণ করে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এদিকে, মেক্সিকোয় অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারতীয় দূতাবাস। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাম জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যা যা প্রয়োজন, সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: Obesity Rate: মূলমন্ত্র সংযম, কীভাবে এত স্লিম-ফিট জাপানিরা?
বর্তমানে পশ্চিম মেক্সিকোয় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেনা মোতায়েন সত্ত্বেও সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি। এল মেনচোর মৃত্যুর পর যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কতটা বড় সংঘাতে রূপ নেয়—এখন সেই দিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।


