Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের আবহেই পূর্ব এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে (Military Drill)। একদিকে ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অস্থিরতা, অন্যদিকে কোরীয় উপদ্বীপে বিশাল সামরিক মহড়া এই দুই পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু হওয়ায় উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন-এর প্রতিক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

‘ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়া (Military Drill)
দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র -এর যৌথ সামরিক অনুশীলনের নাম ‘ফ্রিডম শিল্ড’। এটি মূলত একটি বার্ষিক প্রতিরক্ষা মহড়া, যার উদ্দেশ্য সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর সমন্বয় ও প্রস্তুতি যাচাই করা। ২০২৬ সালের এই মহড়া শুরু হয়েছে সোমবার থেকে এবং চলবে আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা। যদিও মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি, তবুও বিভিন্ন সামরিক পর্যবেক্ষকের মতে, হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং নানা ধরনের সামরিক সরঞ্জাম এই মহড়ার অংশ।
মহড়ার আড়ালে যুদ্ধ প্রস্তুতি (Military Drill)
দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করে আসছে যে, আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই ধরনের সামরিক মহড়া আসলে প্রতিরক্ষামূলক নয়। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এই মহড়াগুলি মূলত উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি। তাদের মতে, সামরিক অভিযান চালানো এবং নতুন অস্ত্র পরীক্ষার অজুহাত হিসেবেই এই মহড়াগুলি ব্যবহার করা হয়। এই কারণেই যখনই বড় ধরনের যৌথ মহড়া শুরু হয়, তখনই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় উত্তর কোরিয়া।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে নতুন উদ্বেগ (Military Drill)
এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ইতিমধ্যেই অস্থির। ইরানকে ঘিরে সংঘাতের আবহে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন পূর্ব এশিয়াতেও সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে বিশ্বের একাধিক অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: Gyanesh Kumar: কালীঘাটে পুজো দিতে গিয়েই বিক্ষোভ! গো ব্যাক স্লোগানের মুখে জ্ঞানেশ কুমার
আন্তর্জাতিক মহলের নজর
বিশ্ব কূটনীতির নজর এখন কোরীয় উপদ্বীপের দিকে। কারণ অতীতে দেখা গেছে, এই ধরনের মহড়া বা সামরিক তৎপরতার জেরে উত্তর কোরিয়া প্রায়ই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। ফলে অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, ‘ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার সময় বা তার পরবর্তী সময়ে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা সামরিক হুমকি দেখা যেতে পারে।



