Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রোড ট্রিপে জবলপুরের পথে বেরিয়ে (MP News) হঠাৎই যেন দুবাইয়ের ছোঁয়া! একদিকে বনজঙ্গলে ঘেরা জাতীয় সড়ক, অন্যদিকে পিচের উপর লাল খোপ খোপ আধুনিক মার্কিং, চোখে পড়লেই প্রশ্ন জাগতে পারে, এ কি তবে মরুশহরের প্রযুক্তি? বাস্তবে সেটাই। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর শহর দুবাই-এর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ মডেল এবার জায়গা করে নিয়েছে ভারতের ‘টাইগার ক্যাপিটাল’ বলে পরিচিত মধ্যপ্রদেশে।
‘ওয়াইল্ডলাইফ-সেফ হাইওয়ে’ (MP News)
ভোপাল থেকে জবলপুরের পথে ন্যাশনাল হাইওয়ে ৪৫-এর (MP News) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে দেশের প্রথম ‘ওয়াইল্ডলাইফ-সেফ হাইওয়ে’ হিসেবে। লক্ষ্য একটাই—দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় বাঘ, চিতাবাঘ-সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর মৃত্যু কমানো। গত কয়েক বছরে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন সংরক্ষিত অরণ্যে দ্রুতগতির যানবাহনের ধাক্কায় একাধিক বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে বীরাঙ্গনা দুর্গাবতী টাইগার রিসার্ভ এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া সড়ক অংশটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। বাঘ ও লেপার্ডের চলাচলের করিডর হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল বেশি। বনদপ্তরের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, প্রচলিত বাম্পার বা হাম্প বসালে ভারী যানবাহনের সমস্যা বাড়ে, পাশাপাশি দীর্ঘ রাস্তায় কার্যকারিতাও কমে। তাই খোঁজা হচ্ছিল বিকল্প প্রযুক্তি।

থার্মোপ্লাস্টিক রেড ব্লক প্রযুক্তি (MP News)
দুবাইয়ের বিশ্ববিখ্যাত শেখ জায়েদ রোড-এ ব্যবহৃত (MP News) থার্মোপ্লাস্টিক রেড ব্লক প্রযুক্তিই হয়ে ওঠে সমাধান। ওই সড়ক দিয়ে যেতে হয় বুর্জ খলিফা, মিউজিয়াম অফ দ্য ফিউচার বা দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। ব্যস্ত রাস্তায় ১২০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে চলা গাড়ি লাল থার্মোপ্লাস্টিক জ়োনে ঢুকলেই চাকার গ্রিপ সামান্য বদলে যায়, ফলে গতি নেমে আসে প্রায় ১০০ কিমি/ঘণ্টায়, ব্রেক না কষেই। এই প্রযুক্তি হিট-রেজ়িস্ট্যান্ট এবং দীর্ঘস্থায়ী। একই সঙ্গে রাতের অন্ধকারে গাড়ির আলো পড়লে উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হয়, যা চালকদের সতর্ক করতে সহায়ক।

‘টেবল-টপ’ ঘাট রোড (MP News)
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ, National Highways Authority of India -এর সহযোগিতায় মোট ১২ কিলোমিটার জুড়ে বসানো হয়েছে থার্মোপ্লাস্টিক রেড ব্লক। এর মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার ‘টেবল-টপ’ ঘাট রোড সরাসরি টাইগার রিজ়ার্ভের সংবেদনশীল অংশের ভেতর দিয়ে গিয়েছে। এই অংশে প্রবেশ করলেই চালকেরা লাল মার্কিং দেখে গতি কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ নিয়ম অমান্য করলে থাকছে ই-চালান ও জরিমানার ব্যবস্থাও। শুধু মার্কিং নয়, থাকছে বাড়তি নিরাপত্তাও। প্রকল্পের অংশ হিসেবে— তৈরি হয়েছে ২৫টিরও বেশি আন্ডারপাস, যাতে বন্যপ্রাণীরা রাস্তা নিরাপদে পার হতে পারে। বসানো হয়েছে দীর্ঘ চেন-লিঙ্ক ফেন্সিং, যাতে প্রাণীরা সরাসরি সড়কে উঠে না আসে। স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড।
একইসঙ্গে সংবেদনশীল জ়োনে আলাদা গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: Operation Trashi: কিশতোয়ারে ‘অপারেশন ত্রসী-ওয়ান’, সেনাবাহিনীর সাফল্য, খতম ৩ জঙ্গি!
বনকর্তাদের মতে, এই মডেল সফল হলে দেশের অন্যান্য টাইগার রিজ়ার্ভ সংলগ্ন জাতীয় সড়কেও একই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হতে পারে। পরিবেশবান্ধব উপায়ে গতি নিয়ন্ত্রণ করে দুর্ঘটনা কমানো—এই উদ্যোগই ভবিষ্যতের রোড সেফটি ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের যুগ্ম সমাধান হতে পারে। প্রযুক্তির হাত ধরে তাই মরুভূমির স্মার্ট সড়ক আর ভারতের অরণ্য সংরক্ষণ আজ এক সুতোয় বাঁধা। একদিকে দ্রুতগতির আধুনিকতা, অন্যদিকে বাঘের নিরাপদ বিচরণ—এই সমন্বয়ই তৈরি করছে নতুন নজির।


