Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: লিবিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে আবারও নেমে এল রক্তাক্ত ছায়া (Muammar Gaddafi)। প্রাক্তন একনায়ক মুয়াম্মার গদ্দাফির পুত্র ও লিবিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সইফ আল-ইসলাম গদ্দাফি আততায়ীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। তাঁর নিজ বাড়িতে ঢুকে চার বন্দুকবাজ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে সইফের অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় শুধু এক ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং লিবিয়ার অস্থির রাজনীতিতে নতুন করে জোরালো প্রশ্নচিহ্ন উঠে এসেছে।

হত্যাকাণ্ডের স্থান ও পরিস্থিতি (Muammar Gaddafi)
৫৩ বছর বয়সি সইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির মৃত্যু হয়েছে লিবিয়ার আলজেরিয়া-সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় এমনটাই দাবি করেছেন গদ্দাফির কন্যা ও সইফের বোন। যদিও এখনও পর্যন্ত হত্যাকারীরা কারা, কিংবা কী উদ্দেশ্যে এই হামলা তা নিয়ে কোনও সরকারি বা রাজনৈতিক পক্ষই প্রকাশ্যে মুখ খোলেনি। ফলে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
গদ্দাফি পরিবারের উত্তরাধিকার (Muammar Gaddafi)
১৯৭২ সালে জন্ম সইফ আল-ইসলামের। তিনি ছিলেন মুয়াম্মার গদ্দাফির দ্বিতীয় সন্তান এবং একসময় তাঁকেই লিবিয়ার ‘ডি ফ্যাক্টো’ উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হত। দীর্ঘ চার দশকের একনায়কতন্ত্রের মধ্যে সইফ নিজেকে তুলনামূলকভাবে সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার ও আধুনিকীকরণের পক্ষে সওয়াল করতেন তিনি। এই কারণেই গদ্দাফি জমানায় আন্তর্জাতিক মহলে সইফকে “মডারেট ফেস” হিসেবেও বিবেচনা করা হত।

২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থান (Muammar Gaddafi)
২০১১ সালে আরব বসন্তের ঢেউ লিবিয়ায় পৌঁছালে নির্মম পরিণতির মুখে পড়ে গদ্দাফি শাসন। বিদ্রোহীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় মুয়াম্মার গদ্দাফির। সেই সময় দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন সইফ আল-ইসলাম। কিন্তু তিনি ধরা পড়েন এবং দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকেন। পরবর্তীতে মুক্তি পেলেও তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন। নিজের বাড়িতেই থাকছিলেন, যদিও বাস্তবে তিনি লিবিয়ার রাজনৈতিক ময়দানে এক গুরুত্বপূর্ণ ছায়া চরিত্র হিসেবেই রয়ে গিয়েছিলেন।
পদ না থাকলেও ক্ষমতার কেন্দ্র (Muammar Gaddafi)
সইফ কোনও সরকারি পদে না থাকলেও, তেলসমৃদ্ধ উত্তর আফ্রিকার এই দেশে তাঁর প্রভাব ছিল প্রশ্নাতীত। বিভিন্ন উপজাতি ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিকল্প জোট গঠনের ক্ষমতা ছিল তাঁর। অনেকের মতে, ভবিষ্যতে তিনি আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে পারেন এই আশঙ্কাই বিরোধীদের অস্বস্তিতে ফেলেছিল। এই প্রেক্ষাপটেই প্রশ্ন উঠছে, সইফ কি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বলি হলেন?

আরও পড়ুন: Lalbazar CP: অ্যাকশনে নতুন সিপি: রাতের কলকাতায় সতর্ক লালবাজার
লিবিয়ার অস্থির ভবিষ্যৎ
এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে বিরোধী গোষ্ঠীর চক্রান্ত, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নাকি আন্তর্জাতিক স্বার্থ জড়িত তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একথা অনস্বীকার্য যে, সইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির মৃত্যু লিবিয়ার রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। গদ্দাফির মৃত্যুর এক যুগ পরও লিবিয়া স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুঁজে পায়নি। তার মধ্যেই গদ্দাফি পরিবারের উত্তরাধিকারীর এই মৃত্যু ফের প্রমাণ করল, লিবিয়ায় ক্ষমতার লড়াই এখনও শেষ হয়নি।



