Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশের সড়ক পরিকাঠামোয় যুক্ত হল এক (Mumbai Musical Road) অভিনব সংযোজন। ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ভারতের প্রথম ‘মিউজিক্যাল রোড’। আর এই বিশেষ রাস্তায় নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চালালেই চাকার ঘর্ষণে বেজে উঠছে অস্কারজয়ী জনপ্রিয় গান Jai Ho. এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে Mumbai-র নারিম্যান পয়েন্ট থেকে ওরলি যাওয়ার উত্তরমুখী রাস্তায়। কোস্টাল টানেল থেকে বেরিয়ে প্রায় ৫০০ মিটার জুড়ে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ সুরেলা স্ট্রেচ। চালকরা টানেল পার করেই পাচ্ছেন এক অনন্য অভিজ্ঞতা—রাস্তা থেকেই ভেসে আসছে সুর।
প্রতিধ্বনিই মিলিয়ে দেয় পরিচিত সুরে (Mumbai Musical Road)
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়ির গতি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটারের (Mumbai Musical Road) মধ্যে থাকলেই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে শোনা যায় ‘জয় হো’। টানেলের ভিতরে ৫০০ মিটার, ১০০ মিটার ও ৬০ মিটার আগে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে, যাতে চালকেরা আগে থেকেই সঠিক গতি বজায় রাখতে পারেন। রাস্তার নির্দিষ্ট অংশে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অগভীর খাঁজ কাটা হয়েছে। গাড়ির চাকা সেই খাঁজের উপর দিয়ে গেলে কম্পন তৈরি হয়। এই কম্পনের ফ্রিকোয়েন্সি এমনভাবে নির্ধারিত যে তা নির্দিষ্ট সুরের নোট তৈরি করে। কম্পন গাড়ির বডিতে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করে, আর সেই প্রতিধ্বনিই মিলিয়ে দেয় পরিচিত সুরে।

হাঙ্গেরির বিশেষ ‘মেলোডি রোড’ প্রযুক্তি (Mumbai Musical Road)
গাড়ির গতি কম হলে সুর দীর্ঘ ও বিকৃত শোনায়, গতি (Mumbai Musical Road) বেশি হলে নোট দ্রুত বাজে, ফলে গান পরিষ্কার বোঝা যায় না। নির্দিষ্ট গতিতেই স্পষ্টভাবে শোনা যায় ‘জয় হো’ এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়েছে হাঙ্গেরির বিশেষ ‘মেলোডি রোড’ প্রযুক্তি। বহু বছর ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন সুরেলা রাস্তা তৈরি হয়েছে। ১৯৯৫ সালে ডেনমার্কে প্রথম তৈরি হয়েছিল ‘Asphaltophone’ নামের মিউজিক্যাল রোড। ২০০৭ সালে জাপানে প্রকৌশলী শিজুও শিনোডা রাস্তার খাঁজ থেকে সুর তৈরির ধারণাকে জনপ্রিয় করে তোলেন। এরপর ধীরে ধীরে হাঙ্গেরি, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী-সহ একাধিক দেশে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়ে।
সঠিক গতিতে গাড়ি চালাতে চালকদের উৎসাহিত করার এক অভিনব পদ্ধতি
হাঙ্গেরির Route 67-এ গাড়ি চালালেই বাজে জনপ্রিয় রক ব্যান্ড Republic-এর গান। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির Fujairah-র একাংশে গাড়ি চালালেই শোনা যায় বিখ্যাত সুর Ode to Joy। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের রাস্তা কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং সঠিক গতিতে গাড়ি চালাতে চালকদের উৎসাহিত করার এক অভিনব পদ্ধতি। নির্দিষ্ট গতিতে না চললে সুর বিকৃত শোনায়, ফলে চালকেরা স্বাভাবিকভাবেই গতি নিয়ন্ত্রণে আগ্রহী হন।

আরও পড়ুন: Bihar News: ৮,২৬০ কোটির মেগা ঘোষণা বিহার সরকারের! পশুপতিনাথ–বৈদ্যনাথ ধাম হাই-স্পিড করিডর
প্রশাসনের দাবি, এই প্রকল্প নিরাপদ ড্রাইভিং সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে যাত্রাপথকে আরও আকর্ষণীয় ও স্মরণীয় করে তুলবে। শিল্প, বিজ্ঞান ও নগর পরিকল্পনার মেলবন্ধনে মুম্বইয়ের এই মিউজিক্যাল রোড ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সড়ক যখন সুর তোলে, তখন যাত্রাপথও হয়ে ওঠে এক নতুন অভিজ্ঞতা



