Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: এক নিঃশব্দ আর্তনাদ যেন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা কাঠালিয়া গ্রামে ( Mysterious death)। সাত বছরের এক বোবা শিশুর রহস্যময় মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকা। বাড়ির পিছনে জমে থাকা পুকুরের জলে ভেসে ওঠে নিথর দেহ। শিশুটি কথা বলতে পারত না, কান্নাও পৌঁছত না সবার কানে—তবুও তার মৃত্যু যেন এক তীব্র চিৎকার হয়ে আজ নাড়িয়ে দিল গোটা গ্রামকে।
কীভাবে নেমে এলো নিঃসঙ্গ জীবনের ছায়া ( Mysterious death)
শিশুটির নাম এখনও পুলিশ প্রকাশ্যে আনেনি ( Mysterious death)। জানা গিয়েছে, তার বাবা একজন পরিযায়ী শ্রমিক, কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বাইরে থাকেন। মা তাপসী সরকার একাই দেখভাল করতেন শিশুটির—একটা বোবা, দুর্বল, অথচ প্রাণবন্ত মেয়ে। প্রতিবেশীদের অনেকেই বলছেন, মা-মেয়ের সম্পর্ক ছিল নিবিড়, তবে মাঝে মধ্যেই মা তাপসীকে ভেঙে পড়তে দেখা যেত। পরিবারে অভাব-অভিযোগ লেগেই থাকত।
কী ঘটেছিল সেই দিন ( Mysterious death)
বুধবার সকালে হঠাৎই উত্তেজনা ছড়ায় কাঠালিয়া গ্রামে। বাড়ির পিছনে জমে থাকা জল—যা মূলত একটি বড়ো পুকুর বা ধানক্ষেতের নিচু অংশে তৈরি জলাশয়—সেখান থেকেই ভেসে ওঠে শিশুটির দেহ। প্রথমে এক প্রতিবেশী মহিলা লক্ষ্য করেন, জলের উপর অচল অবস্থায় কিছু একটা ভাসছে। কাছে গিয়ে দেখতে পান, সেটি একটি শিশুর দেহ। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন অন্যান্য স্থানীয়রা, খবর দেওয়া হয় করিমপুর থানায়।
পুলিশ ও চিকিৎসকের বক্তব্য কী ছিল
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় করিমপুর থানার পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় করিমপুর ব্লক হাসপাতালে, যেখানে চিকিৎসকেরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে এখান থেকেই শুরু হয় রহস্যের পর্দা উঠা।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ডুবে মৃত্যুর ক্লাসিক চিহ্নগুলো—যেমন নাক-মুখে ফেনা, ফুসফুসে জল ইত্যাদি—সবটা পরিস্কার নয়। এ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে তদন্তকারী অফিসারদের মধ্যেও।
খুন না দুর্ঘটনা?
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের মতে, শিশুটি ডুবে মরেছে—এই যুক্তি মানা যাচ্ছে না। শিশুটির শারীরিক ক্ষতচিহ্ন কিংবা মুখাবয়বে আতঙ্কের ছাপ ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, পুকুরে নিজে নিজে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা শিশুটির ছিল না, এবং সে প্রতিদিনই ওই এলাকায় খেলত।
আরও পড়ুন:Calcutta HC: ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় জামিন দুই পুলিশ কর্মীর, হাইকোর্টে জোর ধাক্কা CBI-এর
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। কেউ কেউ বলছেন, শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারে গাফিলতি ছিল। আবার কেউ বলছেন, প্রতিবেশীদের মধ্যেই হয়তো কেউ জড়িত।


