Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী ১৪ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে (Narendra Modi)। সম্ভাব্য এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসন, পুলিশ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সফরের সময় কলকাতায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি একটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সফরসূচি মূলত দুই দিনের পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। ১৩ মার্চ উত্তরবঙ্গ হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বোত্তর ভারতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং ১৪ মার্চ তিনি কলকাতায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন।

দিল্লি থেকে হাসিমারা হয়ে কোকরাজহার (Narendra Modi)
সম্ভাব্য কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৩ মার্চ সকালে প্রধানমন্ত্রী দিল্লি বিমানবন্দর থেকে বিশেষ বিমানে যাত্রা করবেন। দুপুর নাগাদ তিনি আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারা বিমানবন্দর বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারেন। সেখান থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে করে তিনি আসামের কোকরাজহার অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। কোকরাজহারে পৌঁছে স্থানীয় কিছু কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রশাসনের মতে, উত্তরবঙ্গের এই ট্রানজিট পর্বটি মূলত পূর্বোত্তর ভারতের সফরের অংশ হিসেবেই নির্ধারিত হয়েছে।
কলকাতায় উন্নয়ন কর্মসূচি (Narendra Modi)
পরদিন, অর্থাৎ ১৪ মার্চ, প্রধানমন্ত্রী আসামের শিলচর থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন বলে সম্ভাব্য সূচিতে উল্লেখ রয়েছে। দুপুর নাগাদ তিনি কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারেন। বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে তিনি শহরের নির্ধারিত হেলিপ্যাডে পৌঁছাবেন এবং সেখান থেকে সড়কপথে অনুষ্ঠানস্থলে যাবেন।

ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সরকারি অনুষ্ঠান (Narendra Modi)
কলকাতার ঐতিহাসিক ময়দান এলাকায় অবস্থিত ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড–এ দুপুরে একটি সরকারি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে পারে।
এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী—
- একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন,
- কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন,
- এবং কয়েকটি প্রকল্পকে দেশের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে পারেন।
রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
কখন কোথায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী? সম্ভাব্য সময়সূচি (Narendra Modi)
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী–এর সম্ভাব্য সফরসূচি অনুযায়ী সময়ভিত্তিক কর্মসূচি নিম্নরূপ—
১৩ মার্চ ২০২৬ (শুক্রবার)
- ১১:৩৫ – দিল্লি বিমানবন্দর থেকে বিশেষ বিমানে রওনা
- ১৩:৩৫ – হাসিমারা বিমানবন্দর–এ আগমন
- ১৩:৪০ – হাসিমারা থেকে হেলিকপ্টারে রওনা
- ১৪:২০ – কোকরাজহার হেলিপ্যাডে পৌঁছানো
১৪ মার্চ ২০২৬ (শনিবার)
- ১২:১০ – শিলচর বিমানবন্দর থেকে বিশেষ বিমানে রওনা
- ১৩:২০ – নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর –এ আগমন
- ১৩:২৫ – কলকাতা বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে রওনা
- ১৩:৪৫ – কলকাতার হেলিপ্যাডে পৌঁছানো
- ১৩:৫০ – হেলিপ্যাড থেকে সড়কপথে রওনা
- ১৩:৫৫ – ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড –এ পৌঁছানো
- ১৪:০০ – ১৪:৩০ – উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কর্মসূচি
- ১৪:৪৫ – ১৫:৩০ – কলকাতায় জনসভায় বক্তব্য
- ১৫:৩৫ – জনসভাস্থল থেকে সড়কপথে রওনা
- ১৫:৪০ – কলকাতা হেলিপ্যাডে পৌঁছানো
- ১৫:৪৫ – হেলিকপ্টারে কলকাতা বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা
- ১৬:০৫ – কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছানো
- ১৬:১০ – বিশেষ বিমানে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা
- ১৮:৩৫ – দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা
কলকাতায় বড় জনসভার সম্ভাবনা (Narendra Modi)
সরকারি অনুষ্ঠানের পর কলকাতায় একটি বড় জনসভা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেল নাগাদ অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে পারেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই জনসভা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
বিকেলে দিল্লিতে প্রত্যাবর্তন (Narendra Modi)
জনসভা শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী আবার হেলিকপ্টারে করে কলকাতা বিমানবন্দরে ফিরবেন। সেখান থেকে বিশেষ বিমানে করে তিনি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী সন্ধ্যার দিকে দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ সতর্কতা (Narendra Modi)
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ সুরক্ষা গোষ্ঠী (এসপিজি) ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় শুরু করেছে। এসপিজি–র অগ্রবর্তী নিরাপত্তা দল শীঘ্রই সফরস্থল পরিদর্শন করতে পারে বলে জানা গেছে। সফর চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির যৌথ সমন্বয় থাকবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নির্দেশিকা, যা সাধারণত “ব্লু বুক” নামে পরিচিত, তা কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের প্রস্তুতি শুরু (Narendra Modi)
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কলকাতা পুলিশ, রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো কর্মসূচির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে কলকাতার ময়দান এলাকা এবং বিমানবন্দর সংলগ্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

আরও পড়ুন: Meteorit Explosion: উড়ন্ত অবস্থাতেই বিস্ফোরণ, উল্কার বিস্ফোরণে তোলপাড় আকাশ!
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর পশ্চিমবঙ্গের জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণার পাশাপাশি জনসভার মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো সফরসূচি এখনও সম্ভাব্য বা অস্থায়ী পরিকল্পনার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে এবং প্রয়োজনে এতে পরিবর্তনও হতে পারে।



